বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে কার্যত রক্ষা পেল পর্তুগাল। গোলশূন্য ড্র করেই নকআউট নিশ্চিত করলেও পুরো ম্যাচে ছন্দহীন ফুটবল উপহার দিল রবার্তো মার্তিনেসের দল। ০-০ ফলাফলে এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। তবে নকআউট পর্বে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। পর্তুগালের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট। একই গ্রুপে ডিআর কঙ্গো উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, তিন ম্যাচেই হেরে কোনও পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের নবাগত উজবেকিস্তান।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আলোচনায় থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দিকে এ দিনও ছিল সমর্থকদের নজর। কিন্তু কলম্বিয়ার শক্ত রক্ষণভাগের সামনে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। শুরু থেকেই একজন ডিফেন্ডার রোনাল্ডোকে কড়া মার্কিংয়ে রাখেন। ফলে আক্রমণে প্রভাব বিস্তার তো দূরের কথা, উল্লেখযোগ্য কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেননি তিনি।
তবে শুধুমাত্র রোনাল্ডোর ব্যর্থতাই নয়, গোটা পর্তুগাল দলই ছিল নিজেদের ছায়া। বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গঠনে পিছিয়ে ছিল তারা। যদিও কিছু আক্রমণ গড়ে তুলেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে হয় কলম্বিয়ার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায়, নয়তো নিজেদের ভুলে গোলের সুযোগ নষ্ট করে পর্তুগাল। বিশেষ করে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পুরো ম্যাচজুড়ে।
অন্যদিকে, ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে কলম্বিয়া। শুরু থেকেই দ্রুতগতির ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শারীরিক শক্তি ও প্রেসিংয়ের মাধ্যমে পর্তুগালের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি তারা। ম্যাচে মোট ২৬টি শট নেয় কলম্বিয়া, যা পর্তুগালের দ্বিগুণ। লক্ষ্যে ছিল ৬টি শট, যেখানে পর্তুগালের ছিল মাত্র দুটি। বলের দখলেও এগিয়ে ছিল কলম্বিয়াই।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে কলম্বিয়া। শুরু থেকেই দ্রুতগতির ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শারীরিক শক্তি ও প্রেসিংয়ের মাধ্যমে পর্তুগালের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি তারা। ম্যাচে মোট ২৬টি শট নেয় কলম্বিয়া, যা পর্তুগালের দ্বিগুণ। লক্ষ্যে ছিল ৬টি শট, যেখানে পর্তুগালের ছিল মাত্র দুটি। বলের দখলেও এগিয়ে ছিল কলম্বিয়াই।
{{/usCountry}}ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় মুহূর্তও তৈরি হয়। সংযুক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ বল জালে জড়ালেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। কয়েক মিলিমিটারের অফসাইডের কারণে বঞ্চিত হয় কলম্বিয়া। সেই গোলটি বৈধ হলে পর্তুগালকে হয়তো গ্রুপ রানার্সআপ নয়, আরও বড় ধাক্কা নিয়েই নকআউটে উঠতে হতো।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেসের দল নির্বাচনও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জোয়াও নেভেসের পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া রুবেন নেভেসই বরং দলের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন। মাঝমাঠে তিনি যেমন একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়েছেন, তেমনি দূরপাল্লার শটে গোলের কাছাকাছিও পৌঁছেছিলেন। বিপরীতে ব্রুনো ফার্নান্দেজ আবারও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। বিস্ময়করভাবে পুরো ম্যাচে মাঠেই নামানো হয়নি বের্নার্দো সিলভাকে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলমহলে।
নকআউটে ক্রোয়েশিয়ার মতো অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে পর্তুগালকে নিজেদের খেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতেই হবে। অন্যথায়, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যে দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, সেটিই বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।