Messi Vs Bellingham viral moment details: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের পর মাঠে লিওনেল মেসির সঙ্গে জুড বেলিংহামের কথোপকথন ঘিরে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। টেলিভিশন ক্যামেরায় দু’জনকে হাত নেড়ে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ম্যাচের উত্তাপে দুই তারকার মধ্যে বচসা বেঁধেছে। তবে ম্যাচ শেষে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আসলে সেটি ছিল একটি ফাউল নিয়ে সাধারণ আলোচনা, এর বেশি কিছু নয়।

বুধবার (স্থানীয় সময়) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। আর অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। গোল না করলেও ম্যাচের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে প্রথমার্ধে মেসি ও বেলিংহামের কথোপকথন। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নানা জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, দুই তারকার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলিংহাম সেই ধারণা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমরা আসলে একটি ফাউল নিয়ে কথা বলছিলাম। এর মধ্যে কোনও খারাপ কিছু ছিল না। আমি জানি, সবাই এটাকে বড় বিষয় বানানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু সত্যিই তেমন কিছু হয়নি। আমি বলেছিলাম, আমার মনে হয়েছিল আগে একটা ফাউল হয়েছিল। তখন মেসি বলল, ‘আমার ওপর হওয়া ফাউলের কী হবে?’ আমি বলেছিলাম, ‘তুমি তো যথেষ্ট শক্তিশালী, এটা সামলে নিতে পারবে।’ এটাই ছিল পুরো ঘটনা।'
বেলিংহাম আরও বলেন, মেসির মতো একজন কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। যদিও পরাজয়ের হতাশা রয়েছে, তবুও মেসির সঙ্গে একই মাঠে খেলতে পারাকে তিনি সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, 'ওর বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা আমার কাছে সম্মানের। ওর সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। অবশ্যই হেরে যাওয়াটা খুব কষ্টের, কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে পারাটা বিশেষ অভিজ্ঞতা।'
{{/usCountry}}বেলিংহাম আরও বলেন, মেসির মতো একজন কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। যদিও পরাজয়ের হতাশা রয়েছে, তবুও মেসির সঙ্গে একই মাঠে খেলতে পারাকে তিনি সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, 'ওর বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা আমার কাছে সম্মানের। ওর সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। অবশ্যই হেরে যাওয়াটা খুব কষ্টের, কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে পারাটা বিশেষ অভিজ্ঞতা।'
{{/usCountry}}ম্যাচের শুরুতে ইংল্যান্ডই এগিয়ে গিয়েছিল। ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের বাড়ানো বল থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর ইংল্যান্ড কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ায় আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
এই জয়ের ফলে আগামী ১৯ জুলাই (স্থানীয় সময়) বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় ইংল্যান্ডকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়েই। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।