লড়াইটা ছিল বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের জন্য। একদিকে ফ্রান্স, এসেছিল স্পেনের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে, কোচ দিদিয়ের দেশঁর শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করতে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কাছে ক্লাইম্যাক্সের পরাজয়ের দুঃখ কাটিয়ে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ ব্রোঞ্জ পদক ঘরে তোলা! সেই লক্ষ্যেই মিয়ামিতে শুরু হয় খেলা। ১০ গোলের ম্যাচে ফরাসি আর্মাডাকে হারিয়ে দেয় হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড!

খেলা শুরুর তিন মিনিটেই আসে প্রথম গোল। তৃতীয় মিনিটে, ডেজায়ার ডুয়ের ক্রস থেকে বল পেয়ে যান ডেক্লান রাইস। এক জোরালো শটে, গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ানকে পরাস্ত করে ম্যাচের প্রথম গোল তিনি করেন।১৮তম মিনিটে, বাম প্রান্ত থেকে কর্নার থেকে ডেক্লান রাইস পেনাল্টি এরিয়ায় একটি ক্রস দেন এবং এজরি কনসা হেড করে গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ানকে ছাপিয়ে যান। এতে ইংল্যান্ডের পক্ষে স্কোর দাঁড়ায় ২-০। ফলত প্রথম থেকেই চাপে পড়ে যায় এমবাপের ফ্রান্স। এরপর ম্যাচে আসে সাকারার আগুন ঝরানো হ্যাট্রিকের একাংশ। ৩৭তম ও ৪৫+১ মিনিটে বুকায়ো সাকা পরপর গোল করে ইংল্যান্ডকে প্রথমার্ধ শেষে ৪-০ গোলে এগিয়ে দেন। ফলত, প্রথমার্ধ থেকেই ফ্রান্স বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লড়াই চালিয়ে যায় ফ্রান্স। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে কিয়ান এমবাপেকে একটি থ্রু পাস দেন, যিনি পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন, এরপর আসে ম্যাচে ফ্রান্সের কাঙ্খিত প্রথম গোল। ৪৮তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে ব্র্যাডলি বারকোলাকে একটি চমৎকার থ্রু পাস দেন, সেই পাসের হাত ধরে ফ্রান্সের স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয় দ্বিতীয় গোল। তবে দিদিয়ের দেশঁর বয়েজ-রা আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যান। খেলার স্কোর ততক্ষণে ৪-২। কিলিয়ান এমবাপে মাইকেল ওলিসের সাথে ওয়ান-টু খেলে পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে একটি শট নেন। স্কোর যায় ৩-৪ এ। ফ্রান্সের পক্ষে আসে ৩ গোল। এরপর ৮৫তম মিনিটে, মালো গুস্তো পেনাল্টি এলাকার ভেতরে জেড স্পেন্সকে ফাউল করলে রেফারি জেসুস ভ্যালেনজুয়েলা সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি স্পটের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে, ১১-মিটার মার্ক থেকে বুকায়ো সাকা শান্তভাবে গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ানকে পরাস্ত করে ইংল্যান্ডের লিড ৫-৩ এ বাড়িয়ে দেন। সাকারা সম্পূর্ণ করেন নিজের হ্যাট্রিক। এরপর গোলের বন্যা বয়ে যাওয়া এই ম্যাচে, খেলার ৯০+৬ মিনিটে, পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে বাঁ পায়ের জাদুতে জালে বল ঢুকিয়ে ফ্রান্সের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৪-৫ করেন উসমান দেম্বেলে। দুই মিনিট পর, জুড বেলিংহামের চমৎকার একটি ব্রেকথ্রু ইংল্যান্ডের হয়ে ৬-৪ গোলের জয় নিশ্চিত করে। দুই ইউরোপিয় দেশের লড়াইতে ব্রোঞ্জ যায় ইংল্যান্ডের কাছে।