FIFA World Cup Argentina Vs Egypt: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোয় ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দেশটি। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে টানা তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে রেফারিং নিয়ে মিশরের তীব্র ক্ষোভ।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে তারা আরও একটি গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-র পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল করা হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। তখন মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন ঘটতে চলেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে তারা অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয়। শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর অভিযোগ, রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিএআর কর্তৃপক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পক্ষ নিয়েছেন। হাসানের দাবি, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মিশরের বৈধ গোল অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া যোগ করা সময়ে তাদের একটি নিশ্চিত পেনাল্টিও দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে হাসান বলেন, 'এই ম্যাচে আমরা কোনও সম্মান বা ন্যায্য বিচার পাইনি। আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে, আবার একটি স্পষ্ট পেনাল্টির ঘটনাও ভিএআর খতিয়ে দেখেনি। মনে হয়েছে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির উপর চাপ ছিল।' তিনি আরও বলেন, 'জীবন সব সময় ন্যায়সঙ্গত নয়, কিন্তু খেলাধুলায় তো অন্তত ন্যায়বিচার থাকা উচিত। এই ফলাফল বা ম্যাচ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা আমি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না।'
{{/usCountry}}সংবাদ সম্মেলনে হাসান বলেন, 'এই ম্যাচে আমরা কোনও সম্মান বা ন্যায্য বিচার পাইনি। আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে, আবার একটি স্পষ্ট পেনাল্টির ঘটনাও ভিএআর খতিয়ে দেখেনি। মনে হয়েছে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির উপর চাপ ছিল।' তিনি আরও বলেন, 'জীবন সব সময় ন্যায়সঙ্গত নয়, কিন্তু খেলাধুলায় তো অন্তত ন্যায়বিচার থাকা উচিত। এই ফলাফল বা ম্যাচ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা আমি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না।'
{{/usCountry}}ম্যাচের সময়সূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিশরের কোচ। তাঁর মতে, দুপুর ১২টায় বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করা ঠিক হয়নি। পরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, 'হয়তো আয়োজকরা চেয়েছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো লিওনেল মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরে আমি আর কোনও দিন বিশ্বকাপ দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনও ন্যায়বিচার নেই।'
মিশরের হয়ে গোল করা মুস্তাফা জিকোও রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, 'রেফারির সিদ্ধান্ত একেবারেই ন্যায্য ছিল না। আমরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু কয়েকটি সিদ্ধান্ত আমাদের সমস্ত পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা আর সম্ভব হল না। মনে হয়েছে, এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।'
যদিও বিতর্কিত পরাজয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে, তবুও এবারের টুর্নামেন্ট মিশরের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। দেশের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে নেমে তারা দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে ওঠে। শুধু তাই নয়, রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবার নকআউট ম্যাচ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করে মিশর। ফলে বিদায় নিলেও এই বিশ্বকাপ তাদের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।