FIFA World Cup France Vs Morocco: ফুটবলে প্রতিশোধের গল্প সব সময় রূপকথার মতো শেষ হয় না। কখনও পুরনো ক্ষত আরও গভীর হয়। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই হিসাব মেটানোর সুযোগ এসেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু ইতিহাস বদলাতে পারল না ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের জোড়া আঘাতে ২-০ গোলে জিতে শেষ চারে উঠে গেল দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফরাসিরা। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দেজিরে দুয়ের দ্রুত গতির আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ। তবে গোলের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। একের পর এক দুরন্ত সেভে তিনি প্রথমার্ধে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
২৫ মিনিটে বড় সুযোগ পায় ফ্রান্স। আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমবাপেকে পাস দেন দেজিরে দুয়ে। বক্সে ঢুকতেই নৌসের মাজরাউই তাঁকে ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে এমবাপের দুর্বল শট অনায়াসে আটকে দেন বোনো। এরপরও দেম্বেলের একাধিক প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং দুয়ের শটও রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস ডিগনের দূরপাল্লার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর নির্ভর করেছিল মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমি কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও উইলিয়াম সালিবার নেতৃত্বে ফরাসি রক্ষণ ছিল অটুট। বলের দখলে ৬৩ শতাংশ এগিয়ে থেকেও গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চেহারাই বদলে যায়। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ‘লে ব্লুজ’। ৬০ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০-এ পৌঁছে যায় তাঁর অবদান।
{{/usCountry}}বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চেহারাই বদলে যায়। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ‘লে ব্লুজ’। ৬০ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০-এ পৌঁছে যায় তাঁর অবদান।
{{/usCountry}}প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় আঘাত হানে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে এমবাপের নিখুঁত ওয়ান-টাচ সেট-আপ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। এরপর ৭৭ মিনিটে সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে এমবাপেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ।
শেষদিকে মরক্কো মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানালেও আশরাফ হাকিমি, আজেদিন উনাহি কিংবা এল আইনাউই কেউই ফরাসি রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি। তবে বোনোর দুরন্ত গোলকিপিং না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়েছিল ফ্রান্স। চার বছর পর একই ব্যবধানে আবারও তাদের বিদায়ের পথ দেখাল ‘লে ব্লুজ’। টুর্নামেন্ট জুড়ে দাপুটে ছন্দ ধরে রেখে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল এমবাপেরা। এবার শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন অথবা বেলজিয়াম।