Messi Hugged Vozinha: স্কোরবোর্ড বলছে, আর্জেন্টিনা ৩, কেপ ভার্দে ২। ইতিহাস লিখবে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলোয় উঠেছে। কিন্তু এই ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি তৈরি হয়েছিল শেষ বাঁশি বাজার পর, যখন আলো-ঝলমলে ক্যামেরার বাইরে এক ফুটবল সম্রাট জড়িয়ে ধরেছিলেন এক স্বপ্নযোদ্ধাকে। তিনি লিওনেল মেসি। আর যাঁকে আলিঙ্গন করেছিলেন, তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
ছোট্ট আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাথা উঁচু করেই। শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তারা লড়েছে বুক চিতিয়ে। আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন ভোজিনহা। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি বহুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন মেসি, আলভারেসদের আক্রমণ। তিনটি গোল হজম করলেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল সাহস, লড়াই আর আত্মবিশ্বাসের অনন্য উদাহরণ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভোজিনহা এগিয়ে যান মেসির কাছে। তারপর যা ঘটল, তা হয়তো সারাজীবন তাঁর হৃদয়ে থেকে যাবে। ভোজিনহার কথায়, ‘আমি মেসির কাছে যেতেই উনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললেন - তুমি অসাধারণ। তোমাদের দেশের মানুষ তোমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত... ওই কথাগুলো শুনে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।’
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মুখে এমন প্রশংসা যে কতটা মূল্যবান, তা লুকোননি কেপ ভার্দের অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘লিও মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। আমি ওঁকে শুধু বলেছিলাম, ধন্যবাদ লিও, আপনিই সেরা।’ সেই আবেগঘন মুহূর্ত আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে একটি ছোট্ট আবদারে। ভোজিনহা মেসিকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা কি জার্সি বদল করতে পারেন? মেসিও হাসিমুখে রাজি হয়ে যান। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর টানেলে নিজের জার্সি ভোজিনহার হাতে তুলে দেবেন।
ভোজিনহার কাছে এই উপহার শুধু একটি জার্সি নয়, বরং জীবনের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি। তাঁর কথায়, ‘এমন মুহূর্ত সারাজীবন হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকে।’ মাঠে প্রতিপক্ষ, কিন্তু মাঠের বাইরে একে অপরের প্রতি সম্মান—ফুটবলের আসল সৌন্দর্য যেন আবারও ধরা দিল এই ঘটনায়। হার-জিতের হিসেবের বাইরে, এই খেলাই শেখায় প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা করতে, ভালো খেলাকে কুর্নিশ জানাতে।
{{/usCountry}}ভোজিনহার কাছে এই উপহার শুধু একটি জার্সি নয়, বরং জীবনের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি। তাঁর কথায়, ‘এমন মুহূর্ত সারাজীবন হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকে।’ মাঠে প্রতিপক্ষ, কিন্তু মাঠের বাইরে একে অপরের প্রতি সম্মান—ফুটবলের আসল সৌন্দর্য যেন আবারও ধরা দিল এই ঘটনায়। হার-জিতের হিসেবের বাইরে, এই খেলাই শেখায় প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা করতে, ভালো খেলাকে কুর্নিশ জানাতে।
{{/usCountry}}আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোয় পৌঁছে নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছে। আর কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও রেখে গেল সাহসের এক উজ্জ্বল গল্প। সেই গল্পে যেমন আছে ছোট দেশের অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা, তেমনই আছে এক মহাতারকার বিনয়। হয়তো বহু বছর পরে এই ম্যাচের ফল কেউ ভুলে যাবে। কিন্তু মেসির সেই আলিঙ্গন আর কয়েকটি আন্তরিক শব্দ ভোজিনহার মতোই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়েও অমলিন হয়ে থাকবে।