FIFA World Cup Spain Vs Portugal: ইউরো, উয়েফা নেশনস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, পাঁচটি ব্যালন ডি’অর থেকে শুরু করে বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান- ফুটবলে ব্যক্তিগত ও দলগত প্রায় সব সাফল্যই অর্জন করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবুও তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা থেকে গেল বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০২৬ বিশ্বকাপই ছিল সম্ভবত তাঁর শেষ অভিযান। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল শেষ ষোলোতেই। আইবেরিয়ান ডার্বিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে চোখের জল লুকোতে পারেননি ৪১ বছর বয়সি এই কিংবদন্তি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলির অন্যতম ছিল পর্তুগাল বনাম স্পেনের এই লড়াই। একদিকে অভিজ্ঞ রোনাল্ডো, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল- দুই প্রজন্মের তারকাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা উত্তেজনা। পর্তুগালের আশা ছিল রোনাল্ডোর হাত ধরে শেষবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ করা, আর স্পেন চাইছিল নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন পর্তুগালের দিয়েগো কোস্তা এবং স্পেনের উনাই সিমন। রোনাল্ডোও কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয়। আর প্রথমার্ধে রোনাল্ডো পায়ে বল ছুঁয়েছিলে মাত্র ১২ বার।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলতে শুরু করে। মাঝমাঠের লড়াইয়ে প্রাধান্য বজায় রাখলেও ঝুঁকি নিতে চাইছিল না কেউই। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ইনজুরি টাইমে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ান পরিবর্ত হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। তাঁর একমাত্র গোলেই স্পেন নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। রোনাল্ডো-সহ পুরো দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ ফুটবলারদের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়, আর অপরদিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন রোনাল্ডো। কিছুক্ষণ পরেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় তাঁকে।
{{/usCountry}}গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। রোনাল্ডো-সহ পুরো দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ ফুটবলারদের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়, আর অপরদিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন রোনাল্ডো। কিছুক্ষণ পরেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় তাঁকে।
{{/usCountry}}এই হার শুধু পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানই শেষ করল না, সম্ভবত বিশ্বকাপ মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দীর্ঘ অধ্যায়েরও ইতি টানল। ফুটবল ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই থেকে গেল। কোটি কোটি সমর্থকের মতো রোনাল্ডোর নিজেরও স্বপ্ন ছিল একদিন বিশ্বকাপ হাতে তোলার। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি থাকলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির মত বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না সিআর সেভেনের। স্পেন এগিয়ে গেল শেষ আটে, আর রোনাল্ডো বিদায় জানালেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চকে- অপূর্ণতার এক গভীর বেদনা সঙ্গে নিয়েই।