FIFA World Cup Updates: ফিফা বিশ্বকাপে নাটক, প্রত্যাবর্তন আর আবেগে ভরা এক রাতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি ম্যাচেই ছিল ভিন্ন গল্প—কোথাও শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন, কোথাও বিতর্কিত পেনাল্টি, আবার কোথাও ১০ জন নিয়ে দুর্দান্ত জয়।

দিনের সবচেয়ে বড় চমক প্রায় ঘটিয়েই ফেলেছিল আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো। ৫২ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে কঙ্গো। সেই দলই শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয়। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। গোল হজমের পর ছন্দ হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। একের পর এক ভুল পাস, আক্রমণে ব্যর্থতা এবং কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির একাধিক দুর্দান্ত সেভে বিরতিতে পিছিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও কঙ্গো দারুণ লড়াই চালিয়ে যায়। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনকে নামানোর পর আক্রমণে গতি বাড়ে। ৭৫ মিনিটে হ্যারি কেনের হেডে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। এরপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া ইংল্যান্ড ৮৬ মিনিটে কেনের দ্বিতীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
অন্য ম্যাচে আরও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল দর্শকরা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেনেগাল। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারা এবং দ্বিতীয়ার্ধে ইসমাইলা সারের গোলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
{{/usCountry}}অন্য ম্যাচে আরও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল দর্শকরা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেনেগাল। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারা এবং দ্বিতীয়ার্ধে ইসমাইলা সারের গোলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
{{/usCountry}}অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্যে বেলজিয়াম পেনাল্টি পায়। সেনেগালের লামিনে কামারার ফাউলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলেও রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ১২৫তম মিনিটে স্পটকিক থেকে টিলেমান্স গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন। শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সেনেগালের ফুটবলাররা। এই জয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে আমেরিকার ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কঠোর ট্যাকলের জন্য ভিএআরের সাহায্যে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। প্রায় আধঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেললেও যুক্তরাষ্ট্র দারুণ শৃঙ্খলা বজায় রাখে। বরং ৮২ মিনিটে মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের জয় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলল। পরের রাউন্ডে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে আমেরিকা। ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো।