আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি পঞ্জাব কিংসের ক্রিকেটার শশাঙ্ক সিং এবং তাঁর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার শৈলেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে মারধর, গালিগালাজ ও জোর করে আটকে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের রাতিবাদ থানায় ৩১ বছর বয়সি বিপেন্দ্র সিং তোমরের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার এফআইআর নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্তদের গাড়িচালকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

অভিযোগকারী বিপেন্দ্র সিং তোমরের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায়। তিনি সম্প্রতি পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে শৈলেশ সিংয়ের ভোপালের নীলবদ এলাকার বাংলোয় রাঁধুনির কাজ নেন। অভিযোগ, তাঁকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পেতে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
তোমরের দাবি, কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। রান্নার মান নিয়ে বারবার অপমান ও গালিগালাজ করা হয়। কাজের চাপ এবং পরিবারের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শৈলেশ সিং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং এক মাস কাজ না করে যেতে পারবেন না বলে হুমকি দেন। এমনকি তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেন, 'তোমার মতো অনেককে গুলি করেছি।' দুই দিন কাজ করার পরও ফোন ফেরত না পেয়ে বিপেন্দ্র নিজেকে একটি ঘরে আটকে রাখেন এবং মোবাইল ফেরতের দাবি জানান।
তাঁর অভিযোগ, এরপর বাড়ির গাড়িচালক দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান শশাঙ্ক সিং। বিপেন্দ্রের দাবি, তিনি ভেবেছিলেন ক্রিকেটার তাঁকে সাহায্য করবেন। কিন্তু দরজা খুলতেই শশাঙ্ক সিং ও গাড়িচালক তাঁকে মারধর শুরু করেন। পরে শশাঙ্কের বাবা ও বোনও হামলায় যোগ দেন। অভিযোগ, তাঁকে লাঠি, লাথি, ঘুষি ও জুতো দিয়ে মারধর করা হয় এবং গুরুতর জখম করা হয়।
{{/usCountry}}তাঁর অভিযোগ, এরপর বাড়ির গাড়িচালক দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান শশাঙ্ক সিং। বিপেন্দ্রের দাবি, তিনি ভেবেছিলেন ক্রিকেটার তাঁকে সাহায্য করবেন। কিন্তু দরজা খুলতেই শশাঙ্ক সিং ও গাড়িচালক তাঁকে মারধর শুরু করেন। পরে শশাঙ্কের বাবা ও বোনও হামলায় যোগ দেন। অভিযোগ, তাঁকে লাঠি, লাথি, ঘুষি ও জুতো দিয়ে মারধর করা হয় এবং গুরুতর জখম করা হয়।
{{/usCountry}}পরে পুলিশের করানো মেডিক্যাল পরীক্ষায় বিপেন্দ্রর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তাঁকে তিন দিনের খাবারের খরচ বাবদ এক হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। সেই টাকা তাঁর ভগ্নিপতি পাঠিয়েছিলেন। পাশাপাশি একটি লিখিত বিবৃতি লিখিয়ে নেওয়ার পরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাজ করার পরও তাঁকে কোনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।
বিপেন্দ্র আরও দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সক্রিয় হয়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাতিবাদ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ, স্বেচ্ছায় আঘাত করা এবং একাধিক ব্যক্তির যৌথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধারা।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত শশাঙ্ক সিং বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি. তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।