Sweet Shop History: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মিষ্টি। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান কোনটি এবং সেটি কোথায় অবস্থিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে আঠারো শতকের কলকাতায়।
ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান: রসগোল্লার শহর কলকাতার এক বিস্মৃত ইতিহাস

ভারতের মিষ্টির দোকানের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে কলকাতার নাম সবার আগে আসে। ঐতিহাসিক তথ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের প্রাচীনতম এবং প্রথম সুসংগঠিত মিষ্টির দোকান হলো কলকাতার ‘নবীন চন্দ্র দাস’ বা তারও আগের কিছু ময়রাদের দোকান। তবে ইতিহাসের পাতায় যে নামটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেটি হলো ১৭৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার শোভাবাজার অঞ্চলের একটি মিষ্টির দোকান।
পুতুলপটি ও প্রথম মিষ্টির দোকান
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ১৭৮৫ সালে উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের পুতুলপটি এলাকায় ‘এম. এল. দাস’ (M.L. Das) নামক একটি মিষ্টির দোকান স্থাপিত হয়েছিল। একেই ভারতের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মিষ্টির দোকান হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সময় ছানা বা দুগ্ধজাত মিষ্টির প্রচলন কেবল শুরু হয়েছে। এর আগে ভারতের মিষ্টি বলতে মূলত বোঝানো হতো গুড়, নারকেল বা চিনির নাড়ু ও মোয়া। ছানার মিষ্টির প্রচলন আধুনিক ভারতীয় মিষ্টান্ন শিল্পে এক বিপ্লব নিয়ে আসে।
রসগোল্লার জনক ও নবীন চন্দ্র দাস
ভারতের মিষ্টির দোকানের ইতিহাসে যে নামটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, সেটি হলো ১৮৬৮ সালে বাগবাজারে প্রতিষ্ঠিত ‘নবীন চন্দ্র দাস’-এর দোকান। যদিও এটি ১৭৮৫ সালের দোকানের পরে প্রতিষ্ঠিত, তবুও আধুনিক মিষ্টির দোকানের যে ধারণা—অর্থাৎ যেখানে বসে বা শো-কেস থেকে সাজানো মিষ্টি কেনা যায়—তার পূর্ণতা পেয়েছিল নবীন দাসের হাতেই। ১৮৬৮ সালে তিনি আবিষ্কার করেন ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’, যা ভারতীয় মিষ্টির সংজ্ঞাই বদলে দেয়।
ভীম চন্দ্র নাগ এবং গিরিশ চন্দ্র দে
{{/usCountry}}ভারতের মিষ্টির দোকানের ইতিহাসে যে নামটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, সেটি হলো ১৮৬৮ সালে বাগবাজারে প্রতিষ্ঠিত ‘নবীন চন্দ্র দাস’-এর দোকান। যদিও এটি ১৭৮৫ সালের দোকানের পরে প্রতিষ্ঠিত, তবুও আধুনিক মিষ্টির দোকানের যে ধারণা—অর্থাৎ যেখানে বসে বা শো-কেস থেকে সাজানো মিষ্টি কেনা যায়—তার পূর্ণতা পেয়েছিল নবীন দাসের হাতেই। ১৮৬৮ সালে তিনি আবিষ্কার করেন ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’, যা ভারতীয় মিষ্টির সংজ্ঞাই বদলে দেয়।
ভীম চন্দ্র নাগ এবং গিরিশ চন্দ্র দে
{{/usCountry}}কলকাতার মিষ্টির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে আরও কিছু প্রাচীন নাম:
- ভীম চন্দ্র নাগ (১৮২৬): বউবাজারে অবস্থিত এই দোকানটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন দোকান। এখানকার ‘লেডিকেনি’ মিষ্টিটি ভারতের বড়লাট লর্ড ক্যানিং-এর স্ত্রী লেডি ক্যানিং-এর সম্মানে তৈরি করা হয়েছিল।
- গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুর চন্দ্র নন্দী (১৮৪৪): উত্তর কলকাতার এই দোকানটি আজও তার সাবেক আমেজ ধরে রেখেছে। সন্দেশ বা কড়াপাকের মিষ্টির জন্য এটি আজও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঠিকানা।
দিল্লির ঘণ্টেওয়ালা: উত্তর ভারতের ইতিহাস
কলকাতার বাইরে যদি ভারতের প্রাচীন মিষ্টির দোকানের কথা বলা হয়, তবে দিল্লির চাঁদনি চকের ‘ঘণ্টেওয়ালা’ (Ghantewala) ছিল অন্যতম। ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানটি উত্তর ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দোকান হিসেবে পরিচিত ছিল। মুঘল সম্রাট থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু—সবাই ছিলেন এর ভক্ত। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ২০১৫ সালে এই ঐতিহ্যবাহী দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়।
কেন এই দোকানগুলো ঐতিহাসিক?
এই প্রাচীন দোকানগুলো কেবল খাবার বিক্রির জায়গা ছিল না, এগুলো ছিল সামাজিক মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। সেই সময়ের মিষ্টির দোকানগুলোতে ব্যবহৃত হতো মাটির মালসা, কলাপাতা এবং পাথরের বাসন। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম—সব কিছুরই সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই দোকানগুলো।
ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকানের তকমা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, ১৭৮৫ সালের পুতুলপটির সেই দোকান এবং ১৮৬৮-র নবীন চন্দ্র দাসের সাফল্যই ভারতীয় মিষ্টান্ন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল। আজ ভারত জুড়ে হাজার হাজার মিষ্টির চেইন শপ থাকলেও, কলকাতার অলিগলিতে থাকা এই শতবর্ষী দোকানগুলোর স্বাদ আজও অতুলনীয়।