...
...
Next Story

Sweet Shop History: ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান কোনটি? রসগোল্লার আগে কোন মিষ্টি খেতেন ভারতীয়রা

Sweet Shop History: ভারতের মিষ্টির দোকানের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে কলকাতার নাম সবার আগে আসে।

Published on: May 1, 2026, 16:53:35 IST
Advertisement

Sweet Shop History: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মিষ্টি। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান কোনটি এবং সেটি কোথায় অবস্থিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে আঠারো শতকের কলকাতায়।

ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান: রসগোল্লার শহর কলকাতার এক বিস্মৃত ইতিহাস

ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান কোনটি? রসগোল্লার আগে কোন মিষ্টি খেতেন ভারতীয়রা
ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান কোনটি? রসগোল্লার আগে কোন মিষ্টি খেতেন ভারতীয়রা

ভারতের মিষ্টির দোকানের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে কলকাতার নাম সবার আগে আসে। ঐতিহাসিক তথ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের প্রাচীনতম এবং প্রথম সুসংগঠিত মিষ্টির দোকান হলো কলকাতার ‘নবীন চন্দ্র দাস’ বা তারও আগের কিছু ময়রাদের দোকান। তবে ইতিহাসের পাতায় যে নামটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেটি হলো ১৭৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার শোভাবাজার অঞ্চলের একটি মিষ্টির দোকান।

পুতুলপটি ও প্রথম মিষ্টির দোকান

অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ১৭৮৫ সালে উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের পুতুলপটি এলাকায় ‘এম. এল. দাস’ (M.L. Das) নামক একটি মিষ্টির দোকান স্থাপিত হয়েছিল। একেই ভারতের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মিষ্টির দোকান হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সময় ছানা বা দুগ্ধজাত মিষ্টির প্রচলন কেবল শুরু হয়েছে। এর আগে ভারতের মিষ্টি বলতে মূলত বোঝানো হতো গুড়, নারকেল বা চিনির নাড়ু ও মোয়া। ছানার মিষ্টির প্রচলন আধুনিক ভারতীয় মিষ্টান্ন শিল্পে এক বিপ্লব নিয়ে আসে।

রসগোল্লার জনক ও নবীন চন্দ্র দাস

কলকাতার মিষ্টির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে আরও কিছু প্রাচীন নাম:

  • ভীম চন্দ্র নাগ (১৮২৬): বউবাজারে অবস্থিত এই দোকানটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন দোকান। এখানকার ‘লেডিকেনি’ মিষ্টিটি ভারতের বড়লাট লর্ড ক্যানিং-এর স্ত্রী লেডি ক্যানিং-এর সম্মানে তৈরি করা হয়েছিল।
  • গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুর চন্দ্র নন্দী (১৮৪৪): উত্তর কলকাতার এই দোকানটি আজও তার সাবেক আমেজ ধরে রেখেছে। সন্দেশ বা কড়াপাকের মিষ্টির জন্য এটি আজও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঠিকানা।

মিষ্টির ঐতিহ্যের সঙ্গে কলকাতার দীর্ঘ দিনের যোগ। (প্রতীকী ছবি)

দিল্লির ঘণ্টেওয়ালা: উত্তর ভারতের ইতিহাস

কলকাতার বাইরে যদি ভারতের প্রাচীন মিষ্টির দোকানের কথা বলা হয়, তবে দিল্লির চাঁদনি চকের ‘ঘণ্টেওয়ালা’ (Ghantewala) ছিল অন্যতম। ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানটি উত্তর ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দোকান হিসেবে পরিচিত ছিল। মুঘল সম্রাট থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু—সবাই ছিলেন এর ভক্ত। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ২০১৫ সালে এই ঐতিহ্যবাহী দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন এই দোকানগুলো ঐতিহাসিক?

এই প্রাচীন দোকানগুলো কেবল খাবার বিক্রির জায়গা ছিল না, এগুলো ছিল সামাজিক মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। সেই সময়ের মিষ্টির দোকানগুলোতে ব্যবহৃত হতো মাটির মালসা, কলাপাতা এবং পাথরের বাসন। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম—সব কিছুরই সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই দোকানগুলো।

ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকানের তকমা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, ১৭৮৫ সালের পুতুলপটির সেই দোকান এবং ১৮৬৮-র নবীন চন্দ্র দাসের সাফল্যই ভারতীয় মিষ্টান্ন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল। আজ ভারত জুড়ে হাজার হাজার মিষ্টির চেইন শপ থাকলেও, কলকাতার অলিগলিতে থাকা এই শতবর্ষী দোকানগুলোর স্বাদ আজও অতুলনীয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe