আবু ধাবিতে ইরানি মিসাইল হামলায় ফের জখম ভারতীয়রা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের মিসাইল হামলা প্রতিহত করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাহিনী। এর জেরে ইরানি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে। সেই সময় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জখম হন মোট ১২ জন। জখম ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত কারও আঘাতই গুরুতর নয়। জখমদের কেউ হালকা চোট পেয়েছেন, কেউ কেউ আবার মাঝারি আঘাত পেয়েছেন বলে খবর।

এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ভারতের ৮ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। গত ৩০ মার্চ কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এর আগে গত ২৬ মার্চ আবু ধাবিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক ভারতীয় নাগরিকের। সেই ঘটনাটি ঘটেছিল শহরের সুয়েইহান স্ট্রিটে। সেই ঘটনায় ২ পাকিস্তানি নাগরিকেরও মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন আরও এক ভারতীয়। এর আগে ১৮ মার্চ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে ড্রোন ও মিসাইল হামলায় এক ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছিলেন। ১৮ মার্চ ওমানের একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে হামলায় মৃত্যু হয়েছিল দুই ভারতীয়ের।
এদিকে সমুদ্রে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধের আবহে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। উল্লেখ্য, ইরানি হামলায় সমুদ্রে অন্য আর কোনও দেশের নাগরিক প্রাণ হারাননি।