...
...
Next Story

FlyDubai: ককপিটে ছুরি নিয়ে হামলার পর ১৭৪ প্রাণ বাঁচালেন স্মিত! মোদী-ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মুখে ভারতীয় ‘হিরো’র প্রশংসা

গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন। একই সময়ে দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে যাত্রীবোঝাই বিমান। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের কথা না ভেবে বিমান এবং যাত্রীদের বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে গেলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার।

Published on: Oct 1, 2026, 07:55:38 IST
Advertisement

FlyDubai Cockpit Attack Hero Indian Pilot: ককপিটের ভিতর আচমকা ছুরি নিয়ে হামলা। গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন। একই সময়ে দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে যাত্রীবোঝাই বিমান। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের কথা না ভেবে বিমান এবং যাত্রীদের বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে গেলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর সাহসিকতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকলেই স্মিতকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন।

Capt Smit Machchhar
Capt Smit Machchhar

ঘটনাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল। বিমানে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আকাশে থাকার সময় ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং তাঁর সহকারী পাইলটের মধ্যে আচমকা সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, সহকারী পাইলট ছুরি দিয়ে স্মিতের উপর হামলা করেন। সেই সময় বিমানটি আচমকা উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

প্রবল চোট পেয়েও স্মিত হাল ছাড়েননি। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, আহত অবস্থাতেও তিনি হামলাকারীর বিরুদ্ধে লড়াই চালান এবং ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ করে দেন। এর পর কয়েক জন যাত্রী এবং কেবিন ক্রু দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আরও কয়েক জন যাত্রী এবং বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে এবং সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

এর পরেই বিষয়টি পৌঁছে যায় ওয়াশিংটন পর্যন্ত। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্মিতকে হিরো বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর কাছ থেকেই তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। তাঁর বর্ণনায়, ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত সাহায্যের জন্য ডাক দিতে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে সক্ষম হন। পরে এক ইজরায়েলি যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। তবে ট্রাম্প নিজেই জানান, তিনি ঘটনাটির তথ্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করেননি এবং নেতানিয়াহু ও প্রাথমিক সূত্রে পাওয়া তথ্যই তুলে ধরেছেন।

ভারতেও স্মিতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গর্বের আবহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করে জানান, ভয়াবহ বিপদের মধ্যেও আহত অবস্থায় অন্যদের জীবন বাঁচাতে স্মিত যে সাহস দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর সাহসে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মোদী।

স্মিত মচ্ছার ভারতীয় নাগরিক। ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। ২০২২ সালের জুনে ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসাবে যোগ দেন তিনি। তাঁর প্রায় ৯৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks