দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে যে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে, সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি কোপাইলটের নাম জানা গেল অবশেষে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই কট্টরপন্থী কোপাইলটের নাম হামাম আলহামামি। অভিযোগ, বিমানেরই কোপাইলট হামাম আলহামামি আচমকা ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তীব্র ধস্তাধস্তিতে বিমানের উচ্চতা দ্রুত কমে যায়। যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত ভারতীয় পাইলট। যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য কর্মীরা কোপাইলটকে এরপর কাবু করেছিলেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিমানটি নিয়ে ইজরায়েলে ক্র্যাশ করার পরিকল্পনা ছিল আলহামামির।
ঘটনার পর হামাম আলহামামির অতীত নিয়েও একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওমানে থাকাকালীন তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে তিনি ওমান এয়ারে কোপাইলট হিসাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় তাঁর কাছে উগ্রপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত কিছু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এর পর তাঁকে বিমান চালানোর কাজ থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওমানের তরফে তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
সিএনএনের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামাম আলহামামি ওমানের নাগরিক। তাঁর জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তাঁর বাবা ওমানের এবং মা সিরিয়ার নাগরিক বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। জীবনের একটা বড় সময় তিনি ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে। সেখানে থাকার সময় তাঁর উপর উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রভাব পড়েছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ রয়েছে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তাঁর কথিত সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঘিরে। একটি মুছে দেওয়া লিঙ্কডইন প্রোফাইলে দাবি করা হয়েছিল, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন। পরে ২০২৫ সালে রয়্যাল এয়ার মারক এবং তার পর ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। সিএনএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে তাঁর কাজের সময় ছিল মাত্র কয়েক মাস। তাঁর নামে থাকা একটি মুছে দেওয়া এক্স অ্যাকাউন্ট এবং সমাজমাধ্যমের কিছু পোস্টও এখন তদন্তের আওতায়।
{{/usCountry}}আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তাঁর কথিত সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঘিরে। একটি মুছে দেওয়া লিঙ্কডইন প্রোফাইলে দাবি করা হয়েছিল, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন। পরে ২০২৫ সালে রয়্যাল এয়ার মারক এবং তার পর ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। সিএনএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে তাঁর কাজের সময় ছিল মাত্র কয়েক মাস। তাঁর নামে থাকা একটি মুছে দেওয়া এক্স অ্যাকাউন্ট এবং সমাজমাধ্যমের কিছু পোস্টও এখন তদন্তের আওতায়।
{{/usCountry}}ঘটনার দিন ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন বিপজ্জনক ভাবে নীচে নামতে শুরু করে। রেকর্ড অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারায়। জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। সেই অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেন। যাত্রী এবং কেবিন ক্রুরা ভিতরে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট পরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটিকে তাবুকে নিরাপদে নামান।
ঘটনার পরে আহত ক্যাপ্টেন স্মিতকে প্রথমে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি জানিয়েছে, এই ঘটনার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না এবং সন্ত্রাসবাদী যোগ রয়েছে কি না, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অনুমান করা উচিত নয়।