ফ্লাইদুবাই কাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে উঠে আসে একাধিক সন্দেহজনক পোস্ট! তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনার পর অভিযুক্ত ওমানি কোপাইলট হামাম আল হামামির নামের একটি লিঙ্কডইন প্রোফাইলে দুটি পোস্ট দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। ওই পোস্টে ককপিটের ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ছবি ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টগুলি কে করেছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরে প্রোফাইলটি মুছে ফেলা হয়েছে।

বুধবারের ফ্লাইদুবাই ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পরে ওই দুটি পোস্ট করা হয়। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, পোস্টগুলি সত্যিই হামাম আল হামামিই করেছিলেন কি না। পাশাপাশি, সেগুলি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল, না কি ঘটনার পরে অন্য কেউ ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পোস্ট করেছিলেন, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
প্রথম পোস্টে একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিটের ভিতরের বেশ কিছু ভিডিও ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এর একটি অংশে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা ইজরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি বিমানকে বিশেষ ভাবে দেখানো হয়। একই ফুটেজে এল আলের আরও বিমান এবং ইজরায়েলের আর একটি সংস্থা আরকিয়ার বিমানও দেখা গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওতে যে ককপিট স্ক্রিন দেখা যায়, সেখানে ওমান এয়ারের একটি ফ্লাইট নম্বর এবং ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবরের তারিখ ছিল। ওই সময় হামাম আল হামামি ওমান এয়ারে কাজ করতেন বলে তাঁর কথিত চাকরির তথ্য থেকে জানা যায়।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভিডিওটির শেষ অংশ। সেখানে আল কায়দার প্রাক্তন নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির ছবি এবং ২০০৯ সালের এক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে যুক্ত হামাম খলিল আবু মুলাল আল বালাওয়ির ছবি ছিল বলে সিএনএনের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় ন জন নিহত হয়েছিলেন। এই ছবিগুলির উপস্থিতি এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে শুধু সমাজমাধ্যমে কোনও ছবি থাকা থেকেই হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা যায় না।
{{/usCountry}}সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভিডিওটির শেষ অংশ। সেখানে আল কায়দার প্রাক্তন নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির ছবি এবং ২০০৯ সালের এক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে যুক্ত হামাম খলিল আবু মুলাল আল বালাওয়ির ছবি ছিল বলে সিএনএনের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় ন জন নিহত হয়েছিলেন। এই ছবিগুলির উপস্থিতি এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে শুধু সমাজমাধ্যমে কোনও ছবি থাকা থেকেই হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা যায় না।
{{/usCountry}}দ্বিতীয় পোস্টটিতেও ছিল ধর্মীয় এবং প্রতীকী উপাদান। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি একটি ছবিতে মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেমের ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে একসঙ্গে দেখানো হয়েছিল। ছবির সঙ্গে এমন একটি কবিতা ছিল, যাতে অপমান মেনে না নেওয়া, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং মর্যাদা রক্ষার মতো বার্তার উল্লেখ ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একই সময় একই ধরনের পোস্ট হামাম আল হামামির নাম ও ছবি থাকা একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও দেখা যায়। পরে সেই অ্যাকাউন্টটিও মুছে ফেলা হয়েছে।
এদিকে হামাম আল হামামির পুরনো পরিচয় এবং চাকরির ইতিহাস নিয়েও তদন্ত চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই সংস্থা ছাড়ার পর রয়্যাল এয়ার মারকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। তার পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে তাঁর কথিত প্রোফাইলে তথ্য ছিল। অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাঁর কাছে উগ্রপন্থী মতাদর্শের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল এবং তাঁকে বিমান ওড়ানোর কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই দাবিও এখনও তদন্তের অংশ।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে হামলার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর আহত হন বলে অভিযোগ। পরে যাত্রী এবং অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে নামানো হয়। পুরো ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, সেই উত্তর এখনও মেলেনি। সমাজমাধ্যমে উঠে আসা এই পোস্টগুলি তদন্তে নতুন সূত্র দিতে পারে, তবে সেগুলির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সরাসরি যোগ এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত নয়।