বিমানের ভিতরে তখন তীব্র আতঙ্ক। ককপিটে হামলা। নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বিমান। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেই মুহূর্তে নিজের কথা না ভেবে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর সেই সাহসের স্বীকৃতি এবার পৌঁছে গেল মার্কিন কংগ্রেসে।
মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্মিত মচ্ছারকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার। তাঁর সঙ্গে প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন। ৫ অক্টোবর প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। পরে তা বিদেশ বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবে শুধু স্মিত মচ্ছারের সাহসের প্রশংসা করা হয়নি। ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে যে অফ ডিউটি পাইলটরা সাহায্য করেছিলেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। প্রশংসা করা হয়েছে কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের ভূমিকাও। তাঁদের সম্মিলিত চেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বরের। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমান। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী। মাঝ আকাশে আচমকাই সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন। তাঁর হাতে ছিল ককপিটে থাকা জরুরি ক্র্যাশ অ্যাক্স। অভিযোগ, সেই অস্ত্র দিয়েই তিনি স্মিতকে গুরুতর আহত করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলেন স্মিত। তবু তিনি বুঝতে পারেন, বিমান দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সেই অবস্থাতেই ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। দরজা খোলার সুযোগ পেয়ে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে দুই রিজার্ভ পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
{{/usCountry}}হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলেন স্মিত। তবু তিনি বুঝতে পারেন, বিমান দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সেই অবস্থাতেই ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। দরজা খোলার সুযোগ পেয়ে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে দুই রিজার্ভ পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
{{/usCountry}}স্মিতকে প্রথমে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর হামলার উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামামির বিরুদ্ধে আগে থেকেই চরমপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল এবং ওমানে তাঁকে উড়ান থেকে বিরতও রাখা হয়েছিল।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার উপর হামলা এবং সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে তদন্তের সব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।
একটি বিমানে কয়েকশো প্রাণ। এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারত। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন স্মিত মচ্ছার। গুরুতর আহত হয়েও তিনি ককপিটের দরজা খুলেছিলেন। সেই সাহসেই বেঁচে যান বিমানের যাত্রীরা। এবার সেই বীরত্বের স্বীকৃতি মিলল আমেরিকার সংসদে। ভারতীয় পাইলটের সেই সাহস আজ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে।