...
...
Next Story

FlyDubai Latest Update: ১৭০-র বেশি যাত্রী নিয়ে উড়ছিল ফ্লাইদুবাই, গুলি করে নামাতে প্রস্তুত ছিল ইজরায়েল!

হঠাৎই বিমান নেমে গেল প্রায় ১৮ হাজার ফুট। ককপিট থেকে মিলল না কোনও উত্তর। মুহূর্তের মধ্যে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান আকাশে উঠে গেল। প্রয়োজনে যাত্রীবোঝাই ফ্লাইদুবাই বিমানটিকে গুলি করে নামানোর জন্যও তৈরি ছিল ইজরায়েলি বাহিনী।

Published on: Oct 6, 2026, 10:21:04 IST
Advertisement

আকাশে তখন ১৭০-র বেশি যাত্রী। বেশির ভাগই ইজরায়েলি। হঠাৎই বিমান নেমে গেল প্রায় ১৮ হাজার ফুট। ককপিট থেকে মিলল না কোনও উত্তর। মুহূর্তের মধ্যে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান আকাশে উঠে গেল। প্রয়োজনে যাত্রীবোঝাই ফ্লাইদুবাই বিমানটিকে গুলি করে নামানোর জন্যও তৈরি ছিল ইজরায়েলি বাহিনী। এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। পরে অবশ্য জানা যায়, বিমানটি ইজরায়েলের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে গিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত আর সেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি।

ফ্লাইদুবাই বিমানটিকে গুলি করে নামানোর জন্যও তৈরি ছিল ইজরায়েলি বাহিনী। (REUTERS)
ফ্লাইদুবাই বিমানটিকে গুলি করে নামানোর জন্যও তৈরি ছিল ইজরায়েলি বাহিনী। (REUTERS)

ঘটনাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭০-র বেশি যাত্রী এবং কর্মী। যাত্রীদের বেশির ভাগই ইজরায়েলের নাগরিক। উড়ান চলাকালীন আচমকাই ককপিটে থাকা ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হামামি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। হাতে থাকা কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হামলার জেরে বিমানটি আচমকা হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমে কোনও সাড়া পায়নি। এই পরিস্থিতিতেই সক্রিয় হয়ে যায় ইজরায়েলের আগে থেকে তৈরি করা বিশেষ ব্যবস্থা। যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়।

ইজরায়েলের এই ব্যবস্থার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের একটি বিশেষ প্রোটোকল। কোনও যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই হয়েছে বলে সন্দেহ হলে এবং মাটির সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সেই উড়ানের পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা কাছাকাছি গিয়ে ককপিট এবং যাত্রীদের অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। বিমানের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে কি না, ককপিটে কেউ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কি না, এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কারণ ইজরায়েলের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণহীন একটি বিমান যদি তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, আজরিয়েলি টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছড়ে পড়ে, তা হলে ভয়াবহ প্রাণহানি হতে পারে। ৯/১১-এর মতো হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

কিন্তু ফ্লাইদুবাই বিমানের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যায়। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, বিমানটি তাদের আকাশসীমার দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরেছে। একই সময়ে সৌদিও নিজেদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।

এর মধ্যেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। পরে কয়েক জন যাত্রী এবং ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত পাইলটও পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

এখন হামামি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি আগেই বিমানটি দখল করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ধাক্কা মারার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনাটিকে আপাতত এক জনের পরিকল্পিত হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে, যদিও তদন্ত এখনও চলছে।

অর্থাৎ, কয়েক মিনিটের ভুল সিদ্ধান্তেই ১৭০-র বেশি যাত্রী নিয়ে ফ্লাইদুবাই বিমানটি ইতিহাসের আর এক ভয়াবহ আকাশ হামলার শিকার হতে পারত। ভারতীয় ক্যাপ্টেনের তৎপরতা এবং যাত্রীদের প্রতিরোধেই শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks