...
...
Next Story

FlyDubai: ইজরায়েলের বহুতলের দিকে উড়ছিল বিমান, বন্ধ হয়েছিল ইঞ্জিন! স্মিতকে খুনই করতে চেয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি কোপাইলট

তদন্তকারীদের কাছে হামামি নাকি বলেছে, সে কোন বিমান সংস্থা তেল আভিভে যায়, তা খুঁজে দেখেই ফ্লাইদুবাইকে বেছে নিয়েছিল। এমনকি সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। আগের কয়েকটি ইজরায়েল সফরেও তথ্য সংগ্রহ করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

Published on: Oct 5, 2026, 08:29:02 IST
Advertisement

ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে সামনে এল নয়া তথ্য। তেল আভিভগামী বিমানটিতে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে মাঝ আকাশে হত্যা করতে চেয়েছিল ওমানি কোপাইলট হামাম আলহামামি। আর তারপর বিমানটিকে ইজরায়েলের এক বহুতলে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারার ছক ছিল তার। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক কোপাইলট হামাম আলহামামি অনেক আগে থেকেই এই পরিকল্পনা করেছিল। ইজরায়েলগামী বিমান চালায় এমন সংস্থাকেই তাই বেছে নিয়ে যোগ দিয়েছিল সে। তার লক্ষ্য ছিল প্রথমে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেনকে মেরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, তার পর তেল আভিভের কোনও উঁচু ভবন বা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সেটিকে আছড়ে ফেলা।

আগেই তৈরি হয়েছিল ছক?

ইজরায়েলের বহুতলের দিকে উড়ছিল বিমান, বন্ধ হয়েছিল ইঞ্জিন! স্মিতকে খুনই করতে চেয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি কোপাইলট (REUTERS)
ইজরায়েলের বহুতলের দিকে উড়ছিল বিমান, বন্ধ হয়েছিল ইঞ্জিন! স্মিতকে খুনই করতে চেয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি কোপাইলট (REUTERS)

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে হামামি নাকি বলেছে, সে কোন বিমান সংস্থা তেল আভিভে যায়, তা খুঁজে দেখেই ফ্লাইদুবাইকে বেছে নিয়েছিল। এমনকি সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। আগের কয়েকটি ইজরায়েল সফরেও তথ্য সংগ্রহ করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অর্থাৎ, আচমকা ককপিটে ঝামেলা নয়, অনেক আগে থেকেই হামলার ছক কষা হয়েছিল বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের।

লক্ষ্য ছিল তেল আভিভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামির পরিকল্পনা ছিল প্রথমে ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে খুন করা। তার পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সোজা তেল আভিভের দিকে উড়ে গিয়ে শহরের কোনও বহুতলে বিমানটি ধাক্কা দেওয়া। আর সেই হামলা এত দ্রুত করার পরিকল্পনা ছিল যাতে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান উঠে বিমানটিকে আটকানোর সময়ই না পায়। আরও ভয়ঙ্কর বিষয়, তেল আভিভে পৌঁছতে না পারলে জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে ভাবা হয়েছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।

ককপিটে কুড়ুল নিয়ে হামলা

এর পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন হামামি। ইতালীয় সংবাদপত্র করিয়েরে দেলা সেরার একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, তিনি দুই ইঞ্জিন বন্ধ করার চেষ্টাও করেছিলেন। একই সঙ্গে বিমানের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন। ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নেমে যায়।

বেঁচে গেলেন শতাধিক যাত্রী

বিমানটিতে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু। কিন্তু ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছর হাল ছাড়েননি। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তার পর কয়েক জন যাত্রী এবং বিমানে থাকা দুই অফ ডিউটি পাইলট ভিতরে ঢুকে হামামিকে কাবু করেন।

বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে নেয় ক্রু। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বড়সড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান বিমানে থাকা যাত্রীরা। ভারতীয় পাইলট মচ্ছরের সাহসের প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

কী উদ্দেশ্য ছিল হামামির?

হামামির অতীত নিয়েও এখন তদন্ত চলছে। তাঁর কোনও উগ্রপন্থী যোগ ছিল কি না, কী ভাবে বিমান চালানোর দায়িত্ব পেলেন এবং তেল আভিভগামী বিমানের কো পাইলট হিসেবে তাঁকে কী ভাবে বাছাই করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাস দমনকারী সংস্থাও তাঁর অতীত খতিয়ে দেখছে বলে খবর।

ইজরায়েলও বিদেশি বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এই ঘটনায় শুধু একটি বিমানের নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

একটি বিমান, কয়েকশো প্রাণ আর ককপিটে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ ছক। শেষ মুহূর্তে এক ভারতীয় পাইলটের সাহস এবং কয়েক জন যাত্রীর তৎপরতায় সেই ছক ভেস্তে গেল। এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই হামলার পরিকল্পনা কত দিন ধরে চলছিল এবং এর পিছনে সত্যিই কি হামামি একাই ছিলেন?

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks