...
...
Next Story

Operation Sindoor: যুদ্ধবিরতি চেয়ে পাকিস্তানের আকুল আর্জি! ঝুলিয়ে রাখে ভারত, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন CDS

Operation Sindoor: পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর জবাবে গত বছর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। প্রথম দফার নিখুঁত হামলায় পাকিস্তানের গভীরে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ৯টি প্রধান জঙ্গি ঘাঁটি একযোগে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

Published on: Aug 5, 2026, 21:00:15 IST
Advertisement

Operation Sindoor: ২০২৫ সালের ১০ মে'র সকাল। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর তীব্র আঘাতে দিশেহারা ও আতঙ্কিত পাকিস্তান আকস্মিক যুদ্ধবিরতির আর্জি নিয়ে ডিজিএমও হটলাইনের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে ইসলামাবাদকে তাৎক্ষণিক কোনও স্বস্তি না দিয়ে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। ভারতের প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহানের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূল কারণ ছিল-পাকিস্তানের ওপর ভারতের পরিকল্পিত হামলার তখনও অর্ধেকটাই বাকি ছিল!

‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন CDS (PTI)
‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন CDS (PTI)

এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান স্পষ্ট জানান, অভিযান বন্ধ করতে রাজি হওয়ার আগে নিজেদের সমস্ত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে বদ্ধপরিকর ছিল ভারত। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর নিখুঁত পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের নেপথ্যে অন্যতম মূল কারিগর ছিলেন এই প্রাক্তন সিডিএস। তিনি বলেন, ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে-এমন ধারণা থেকেই মূলত যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজেছিল পাকিস্তান। তবে এর পাশাপাশি, নয়াদিল্লি যদি পাল্টা আঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়, সেই আশঙ্কায় তটস্থ হয়েই ইসলামাবাদের তরফে তড়িঘড়ি এই যুদ্ধবিরতির আর্জি জানানো হয়েছিল।

কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল 'অপারেশন সিঁদুর'-র যুদ্ধবিরতি?

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ১০ মে সকালে পাকিস্তানের আকস্মিক ফোনকলকে নিজের সামরিক জীবনের 'সবচেয়ে বড় চমক' বলে বর্ণনা করেছেন জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি জানান, '১০ মে আমার কাছে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় ছিল পাকিস্তানের ফোন করে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া। কারণ ঠিক একদিন আগেই, অর্থাৎ ৯ মে, তারা বড়াই করে বলেছিল যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতকে উচিত শিক্ষা দেবে। অথচ মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই তারা ফোন তুলে নেয়। তখন আমাদের পরিকল্পনার অর্ধেকও বাস্তবায়িত হয়নি।' তবে ৯ মে রাত থেকে ১০ মে বিকেল পর্যন্ত বাস্তব চিত্রটা পুরোপুরি বদলে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটিতে একের পর এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় ভারত-যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক হ্যাঙ্গার, রাডার সিস্টেম এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। জেনারেল চৌহান জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামাবাদকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে-পাকিস্তানের কোনও সামরিক ঘাঁটিই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের বাইরে নয়। ভারতীয় হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান, রহিম ইয়ার খান এবং ভোলারি বিমানঘাঁটির ধ্বংসস্তূপ আজও মেরামত করতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

পাল্টা জবাবে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্ত শহরগুলোর সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোণ ও ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এরপরই পাকিস্তানকে চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে সরাসরি তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো শুরু করে ভারত। জেনারেল অনিল চৌহান জোর দিয়ে জানান, পাকিস্তানের তুলনায় ভারতীয় সামরিক কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়নের অসাধারণ ক্ষমতাই দিল্লির আসল শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। তিনি বলেন, 'আমাদের হামলা কতটা সফল এবং পাকিস্তানের হামলায় কী প্রভাব পড়েছে, তা আমরা দ্রুত বুঝতে পারছিলাম। যুদ্ধ মানেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে শত্রুপক্ষ সবসময় চাপে থাকে। আমরা সেটাই করতে পেরেছিলাম।'

জয়কে আরও বেশি চূড়ান্ত রূপ দিতে চেয়েছিল ভারত

প্রাক্তন সিডিএস স্পষ্ট করে বলেন, রণক্ষেত্রের সঠিক মানচিত্র এবং নিজেদের বাস্তব সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটাই জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। তিনি প্রকাশ করেন যে, সীমান্ত পার না করেও ভারতের মতো পাকিস্তানের গভীরে নিখুঁত বিমান হামলা চালানোর কৌশল নকল করতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু ততক্ষণে পাকিস্তানের একাধিক মূল রাডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তিনি বলেন, 'পাকিস্তান ভেবেছিল যে, যদি তারা গভীরভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালাতে পারে, তাহলে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হবে।' তবে, তারা কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই ভারত তাদের বিমানঘাঁটিগুলোতে হামলা শুরু করে দিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাকিস্তান আর বিমান হামলা চালাতে পারছিল না। জেনারেল চৌহান বলেন, '১০ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা (পাকিস্তান) যে ফোন করেছিল, তার কারণ ছিল বিমান শক্তি। তারা ভেবেছিল, এখন কথা বলাই শ্রেয়। নইলে পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপের দিকে যেত।' তবে যুদ্ধ থামানোর আগে প্রতিপক্ষকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং শিক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর ছিল ভারতীয় সেনা। বিজয়কে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত করতে সকাল ১০টায় দ্বিতীয় দফা এবং দুপুর ১টায় তৃতীয় দফার ভয়ঙ্কর বিমান হামলা চালানো হয়। আর এর পরেই ভারত যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানায়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe