Nobel Peace Prize: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি। ৮৫ বছর বয়সি ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান মহিলা বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রসংঘের (UN) মানবাধিকার প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়াও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পিল্লাইকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। বর্ণবিদ্বেষের পরিবেশে ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্ম তাঁর। ১৯৬৭ সালে তিনি নিজস্ব আইন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমিয়ে ১৯৮৮ সালে তিনি ডক্টর অফ জুনিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বিচার বিভাগে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। বর্ণবিদ্বেষবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন পিল্লাই।
পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও বিস্তারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক মামলায় তিনি দেখিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই মামলায় প্রথমবারের মতো শুধু প্রচারের মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেও একজন আসামির বিচার হয়। এই আইনি অগ্রগতিতেও তার ভূমিকা ছিল।
{{/usCountry}}পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও বিস্তারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক মামলায় তিনি দেখিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই মামলায় প্রথমবারের মতো শুধু প্রচারের মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেও একজন আসামির বিচার হয়। এই আইনি অগ্রগতিতেও তার ভূমিকা ছিল।
{{/usCountry}}নোবেল কমিটি বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অহিংস সমাধানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন অপরিহার্য। শান্তির জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা চাপ ও আক্রমণের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাহস, দূরদৃষ্টি ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিল্লাই। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একইসঙ্গে সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়েরই আইনের শাসন মেনে চলার দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি বারবার তুলে ধরেছেন। নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা ও বিকাশের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়। ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তার অঙ্গীকার আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।
নাভি পিল্লাইয়ের এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার অফিস। জেনেভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, 'এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি খবর, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের প্রতি আমাদের আরও বেশি নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন।' উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে বিজয়ী পাবেন ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রাউন, যা প্রায় ১২ লক্ষ মার্কিন ডলারের সমান। সুইডিশ শিল্পপতি ও নোবেল পুরস্কারের প্রণেতা আলফ্রেড নোবেলের প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে (Oslo) আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।