Cornell University: কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক প্রাক্তন ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটররা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ফ্র্যাটারনিটির সাত সদস্যের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে কর্নেলের ‘কাই ফাই’ (Chi Phi) ফ্র্যাটারনিটি হাউসে উইনস্টন লি, স্কট ক্রেটজশমার, স্কট নরিস, ম্যাথিউ ইনগলস, জোনাথন নেয়েল, গিলিও লোপেস এবং দিয়েগো সারাবিয়া মিলে ‘জেন ডো’ (Jane Doe) ছদ্মনামে চিহ্নিত ওই তরুণীকে মাদক সেবনে বাধ্য করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

বর্তমানে ওই তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ফ্র্যাটারনিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিযুক্তরা তাঁকে সুরক্ষা দিতে এবং এই নারকীয় আক্রমণ রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
মামলায় কী অভিযোগ করা হয়েছে?
মামলার বিবরণ উদ্ধৃত করে সিবিএস (CBS) জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই ছাত্রীর বয়স ছিল ২০ বছর এবং তিনি ইথাকা শহরে তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কর্নেলের কাই ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউসে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তরুণীর অভিযোগ, তিনি অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় থাকাকালীন ফ্র্যাটারনিটির দুই সদস্য তাঁকে মাদকদ্রব্য (কেটাামিন বলে চিহ্নিত) সেবনে বাধ্য করে এবং এরপরই তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয়।
মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, একাধিক ব্যক্তি তরুণীর সম্মতি ছাড়াই তাঁর সঙ্গে যৌনকর্মে (যার মধ্যে ওরাল ও ভ্যাজাইনাল দুই ধরনই অন্তর্ভুক্ত) লিপ্ত হয়। এতে আরও বলা হয়, তরুণী যখন অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন, তখন অভিযুক্তদের একজন ‘কাই ফাই অ্যাক্টিভস’ নামের স্ন্যাপচ্যাট-এর গ্রুপ চ্যাটে কুরুচিকর মেসেজ করে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মেসেজের জবাবে অভিযুক্তদের একজন লেখে, 'এটা তো চরম পাগলামো।' অভিযোগ, এই মেসেজ ছড়ানোর পর আরও কয়েকজন যুবক সেখানে পৌঁছায় এবং তরুণীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ধর্ষণ করা হয়। আদালতের নথিতে ওই স্ন্যাপচ্যাট কথোপকথনের স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিস্টেমের চরম ব্যর্থতা
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানান ওই তরুণী। নির্যাতিতার আইনজীবী টমাস জিউফ্রা অভিযোগ করেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কর্নেল কর্নেল ইউনিভার্সিটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছিল ঠিকই, তবে অভিযুক্ত সাত ফ্র্যাটারনিটি সদস্যের মধ্যে মাত্র দু'জনকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিদের সাময়িক বরখাস্ত, ওয়ার্কশপ করানো বা প্রবন্ধ লেখার মতো লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, কর্নেল কর্তৃপক্ষ 'এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল যেখানে মামলাকারীর মতো নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণকে নীরবে মেনে নেওয়া হতো' এবং তারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে 'কঠোর পদক্ষেপ নিতে বা তাদের বহিষ্কার করতে' ব্যর্থ হয়েছে।
{{/usCountry}}অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানান ওই তরুণী। নির্যাতিতার আইনজীবী টমাস জিউফ্রা অভিযোগ করেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কর্নেল কর্নেল ইউনিভার্সিটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছিল ঠিকই, তবে অভিযুক্ত সাত ফ্র্যাটারনিটি সদস্যের মধ্যে মাত্র দু'জনকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিদের সাময়িক বরখাস্ত, ওয়ার্কশপ করানো বা প্রবন্ধ লেখার মতো লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, কর্নেল কর্তৃপক্ষ 'এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল যেখানে মামলাকারীর মতো নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণকে নীরবে মেনে নেওয়া হতো' এবং তারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে 'কঠোর পদক্ষেপ নিতে বা তাদের বহিষ্কার করতে' ব্যর্থ হয়েছে।
{{/usCountry}}সিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিউফ্রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এই ছেলেদের মধ্যে একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। একজনকেও না। এটা আমি নিশ্চিত তথ্য হিসেবেই আপনাকে বলতে পারি।' তিনি আরও বলেন, 'সেখানে এমন বহু মানুষ ছিলেন যাঁরা এই ঘটনা রুখতে পারতেন, কিন্তু কেউই তা করেননি। আমি জীবনে এমন ঘটনার সাক্ষী কখনও হইনি।' জানা গেছে, এই নারকীয় ঘটনার পর ওই তরুণী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এই মামলায় ওই তরুণী কর্নেল কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং অভিযুক্তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ, চরম গাফিলতি এবং রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি শাস্তি হিসেবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, তবে মামলার আবেদনে নির্দিষ্ট কোনও অঙ্কের উল্লেখ নেই। আইনজীবী জিউফ্রা বলেন, 'এই ঘটনার জেরেই ও আজ আর কলেজে পড়তে পারছে না। অভিযুক্তরা তাঁর সঙ্গে যা করেছে, তারপর ও কোনওমতে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।'
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই নতুন মামলার প্রেক্ষিতে টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, তাঁর কার্যালয় 'পুলিশের তদন্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেছে', তবে 'ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব ছিল।'
কর্নেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের জবাবে কর্নেল ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, তাদের নাগরিক অধিকার দফতর (Office of Civil Rights) এবং শিক্ষার্থী আচরণ দফতর বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি মেনেই অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তি করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানায়, কাই ফাই ফ্র্যাটারনিটির ‘এক্সি চ্যাপ্টার’কে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়, 'ফেডারেল গোপনীয়তা আইনের কারণে কর্নেল কোনও নির্দিষ্ট ছাত্রের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারে না, তাই অন্য কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বরখাস্ত বা বহিষ্কারের মতো চরম শাস্তিও হতে পারে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যাবতীয় বিশদ জবাব দেব।' বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই তদন্তের পরই যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ফ্র্যাটারনিটির প্রতিক্রিয়া
সিবিএস নিউজকে পাঠানো এক বিবৃতিতে কাই ফাইয়ের জাতীয় সদর দফতর জানিয়েছে, 'কর্নেল ইউনিভার্সিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে যিনিই অভিযোগ করবেন, তাঁর কথা সহানুভূতি, সম্মান এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনা উচিত।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, '২০২৪ সালের এই ঘটনা সংক্রান্ত মামলা সম্পর্কে আমরা অবগত। যেহেতু মামলা আদালতে বিচারাধীন, তাই নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারব না। তবে আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংবেদনশীল থাকা এবং একটি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব।'