...
...
Next Story

France: বিশ্বযুদ্ধেও টিকে ছিল, বিক্ষোভের আগুনে ধ্বংস ১৪০ বছরের পুরনো টাউন হল! ফ্রান্সে তীব্র অশান্তি, গ্রেফতার ১২০০

ফ্রান্সের লিমোজ শহরের টাউন হলটি ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভবন। কিন্তু শনিবার মুখোশ পরা এক দল বিক্ষোভকারী সেখানে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভবনটির বড় অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

Published on: Oct 18, 2026, 11:34:33 IST
Advertisement

দুই বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল ঐতিহাসিক ভবনটি। কিন্তু এ বার বিক্ষোভের আগুনে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেল ফ্রান্সের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো টাউন হল। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু সেই প্রতিবাদই শনিবার, ১৭ অক্টোবর হিংসাত্মক চেহারা নেয়। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়িতে আগুন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে ফ্রান্সের একাধিক শহর। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর দাবি, এই ঘটনায় দেশ জুড়ে ১২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশকর্মী।

আগুনে বিধ্বস্ত ঐতিহাসিক ভবন

ফ্রান্সের লিমোজ শহরের টাউন হলটি ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। (Lucas Destrem via REUTERS)
ফ্রান্সের লিমোজ শহরের টাউন হলটি ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। (Lucas Destrem via REUTERS)

ফ্রান্সের লিমোজ শহরের টাউন হলটি ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভবন। কিন্তু শনিবার মুখোশ পরা এক দল বিক্ষোভকারী সেখানে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভবনটির বড় অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

শুধু লিমোজ নয়, মার্সেই এবং লিল শহরের পুরসভা ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে। বোর্দো শহরে পুলিশের একটি ভবন ভাঙচুর করা হয়। লিয়ঁতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পর্যটন দফতরের একটি ভবনে। প্যারিসেও একাধিক দোকান ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে প্রসাধনী, পোশাক এবং দামি পণ্যের দোকান, বাদ যায়নি কিছুই।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, তার পরেই হিংসা

মূলত জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্থের অভাব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। সেই আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিক সংগঠন এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকেরা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ। শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-র দাবি, সংখ্যাটা ৮ লক্ষের কাছাকাছি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। সরকারি ভবন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং দোকানে হামলা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুও হিংসার নিন্দা করেছেন। এদিকে, আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে এই অশান্তি সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছে। বিরোধী নেতারা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। দক্ষিণপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেন বিক্ষোভকারীদের একাংশের হিংসাত্মক আচরণের সমালোচনা করেছেন। অন্য দিকে, বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভে সমর্থন জানালেও লুটপাট থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যে কতটা গভীর, এই বিক্ষোভে তা স্পষ্ট। কিন্তু প্রতিবাদের নামে ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস এবং লুটপাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফ্রান্সের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks