...
...
Next Story

DR Congo Stun Portugal: অ্যাসিড হামলা থেকে বিশ্বকাপের নায়ক! পর্তুগালকে রুখে কঙ্গোর ইতিহাস গড়লেন উইসা

DR Congo Stun Portugal: ইওয়ানে উইসার এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে ওঠে তার জীবনের ভয়াবহ এক ঘটনার পর। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক হামলার শিকার হন তিনি, যেখানে তার চোখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। সেই হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছিলেন।

Published on: Jun 18, 2026 05:23 PM IST
Advertisement

DR Congo Stun Portugal: রূপকথা কাকে বলে? এমন কিছু যা অত্যাশ্চর্য, এমন কিছু যা বাস্তবে ঘটে না, তাকেই বলে রূপকথা। কিন্তু এই বাস্তবকে কী রূপকথার সঙ্গে তুলনা করা যায়? হ্যাঁ স্বীকার করতেই হবে। নাহলে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা একটা দল এক দুরন্ত ফর্মে থাকা দলকে রুখে দেয়? এমনই অঘটন ঘটল বুধবার। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা ডিআর কঙ্গো ঠেকিয়ে দিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে। শুধু আটকাল বললে ভুল হবে, বিধ্বস্ত করে দিয়ে গেল। আর ডিআর কঙ্গো ফুটবলে এই ইতিহাস রচনা করলেন ইওয়ানে উইসা।

পর্তুগালকে রুখে কঙ্গোর ইতিহাস গড়লেন ইওয়ানে উইসা (Getty Images via AFP)
পর্তুগালকে রুখে কঙ্গোর ইতিহাস গড়লেন ইওয়ানে উইসা (Getty Images via AFP)

হিউস্টনের রাত তখন পর্তুগালের দাপটে আলোকিত। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় পরাশক্তি পর্তুগাল। বিশ্বকাপ মঞ্চে ৫২ বছর পর ফেরা ডিআর কঙ্গোর শুরুটা হয়ে ওঠে চাপ, অস্থিরতা আর কঠিন প্রতীক্ষার। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের ছবিটা। কর্নার থেকে আসা বলের দিকে নিখুঁত টাইমিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইওয়ানে উইসা। শক্তিশালী হেডে বল জড়িয়ে যায় জালে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগিজ সমর্থকদের উল্লাস। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয় নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল। তবে এই গোল শুধু সমতা ফেরানোর মুহূর্ত নয় বরং এক দীর্ঘ অন্ধকারকে ছাপিয়ে ওঠার প্রতীক। কারণ উইসার জীবনগাথা শুরু হয়েছিল ফুটবলের বাইরের এক ভয়াবহ বাস্তবতা দিয়ে।

ইওয়ানে উইসার এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে ওঠে তার জীবনের ভয়াবহ এক ঘটনার পর। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক হামলার শিকার হন তিনি, যেখানে তার চোখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। সেই হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছিলেন। ২০২১ সালের ১ জুলাই নিজের বাড়ির দরজা খুলতেই অ্যাসিড হামলার শিকার হন তিনি। এক মহিলা তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষোভে তাঁর মুখে ছুড়ে মারে দাহ্য রাসায়নিক। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উইসার চোখ। চিকিৎসকেরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থায়ী অন্ধত্বের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একাধিক অস্ত্রোপচার। শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ফিরতে হয়েছে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে। পরে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উইসার জানান, সেই ঘটনার পর থেকে তিনি তীব্র আতঙ্কে ভুগতেন। হঠাৎ শব্দে চমকে ওঠা, ভিড় এড়িয়ে চলা, রাতে একা ঘুমাতে না পারা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তিনি আরও জানান, তাঁর সন্তানরা তার মুখের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু তারা ছোট হওয়ায় পুরো ঘটনা বোঝানো সম্ভব হয়নি। আদালতে উইসার দেওয়া বয়ানের মাধ্যমে ১৮ বছরের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন আক্রান্তকারী মহিলা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe