পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ছে। এবার পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে মার্কিন ড্রোন নির্মাতা সংস্থা পাওয়ারআসের একটি সমঝোতা এই সম্পর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, পাওয়ারআসের প্রস্তাবিত ভবিষ্যৎ কর্পোরেট কাঠামোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগের যোগসূত্র রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে লাইভ হিন্দুস্তান জানিয়েছে, পাওয়ারআস ও পাকিস্তান সেনার মধ্যে হওয়া সমঝোতায় প্রাথমিকভাবে কিছু ড্রোন সরবরাহের অর্ডারও রয়েছে। তবে ড্রোনের সংখ্যা, চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত সহযোগিতার মধ্যে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের মাটিতে ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি বা উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।
পাওয়ারআস শুধু সামরিক ড্রোন তৈরি করে না। সংস্থাটি সামরিক ও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিহত করার প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করে। সংস্থাটির অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অরিয়াস গ্রিনওয়ের সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগের সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে পাওয়ারআসের চুক্তিটি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দিক থেকেও বিশেষ নজর কেড়েছে।
গত কয়েক মাসে পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার আরও কয়েকটি নজির সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে মুনিরের ভূমিকার প্রশংসাও করেছিলেন ট্রাম্প। পরে পাকিস্তান ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করার কথাও জানিয়েছিল।
এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়েও দুই পক্ষের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসসি ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজিসের সঙ্গে ডলার-নির্ভর স্টেবলকয়েন ইউএসডি১ নিয়ে একটি সমঝোতা করে। লক্ষ্য ছিল সীমান্তপারের লেনদেন এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় স্টেবলকয়েনের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে সহযোগিতা খতিয়ে দেখা। একই সময়ে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাকিস্তান সফরও হয়েছিল।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়েও দুই পক্ষের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসসি ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজিসের সঙ্গে ডলার-নির্ভর স্টেবলকয়েন ইউএসডি১ নিয়ে একটি সমঝোতা করে। লক্ষ্য ছিল সীমান্তপারের লেনদেন এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় স্টেবলকয়েনের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে সহযোগিতা খতিয়ে দেখা। একই সময়ে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাকিস্তান সফরও হয়েছিল।
{{/usCountry}}পাকিস্তানের জন্য এই সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ঋণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতার সমস্যায় রয়েছে। ফলে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো পাকিস্তানের কাছে শুধু নিরাপত্তা বা কূটনীতির বিষয় নয়; বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাজার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা আমদানিতে চিনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলে মার্কিন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোকে সামরিক সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ভারতের দিক থেকেও এই ড্রোন চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার দুই দেশের সামরিক কৌশলে প্রযুক্তিটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে পাকিস্তান যদি মার্কিন সংস্থার প্রযুক্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন বা উন্নয়ন ক্ষমতা বাড়াতে পারে, তা হলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুক্তির বিস্তারিত প্রযুক্তি ও প্রকৃত সরবরাহের পরিমাণ প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।
সব মিলিয়ে, ক্রিপ্টো থেকে ড্রোন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। পাওয়ারআসের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা সেই সম্পর্কের নতুন একটি দিক। এখন নজর থাকবে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ড্রোন সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদনের দিকে কতটা এগোয়।