...
...
Next Story

Trump-Pakistan Relationship: ক্রিপ্টো থেকে ড্রোন, ট্রাম্পকে পকেটে পুড়ে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে পাকিস্তান

পাওয়ারআস ও পাকিস্তান সেনার মধ্যে হওয়া সমঝোতায় প্রাথমিকভাবে কিছু ড্রোন সরবরাহের অর্ডারও রয়েছে। তবে ড্রোনের সংখ্যা, চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Published on: Sep 18, 2026, 13:54:47 IST
Advertisement

পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ছে। এবার পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে মার্কিন ড্রোন নির্মাতা সংস্থা পাওয়ারআসের একটি সমঝোতা এই সম্পর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, পাওয়ারআসের প্রস্তাবিত ভবিষ্যৎ কর্পোরেট কাঠামোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগের যোগসূত্র রয়েছে।

US President Donald Trump during a meeting with Pakistan Prime Minister Shehbaz Sharif and Field Marshal Asim Munir at the White House, in Washington, DC, US, Sept. 26, 2025. (Image: PTI)
US President Donald Trump during a meeting with Pakistan Prime Minister Shehbaz Sharif and Field Marshal Asim Munir at the White House, in Washington, DC, US, Sept. 26, 2025. (Image: PTI)

রয়টার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে লাইভ হিন্দুস্তান জানিয়েছে, পাওয়ারআস ও পাকিস্তান সেনার মধ্যে হওয়া সমঝোতায় প্রাথমিকভাবে কিছু ড্রোন সরবরাহের অর্ডারও রয়েছে। তবে ড্রোনের সংখ্যা, চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত সহযোগিতার মধ্যে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের মাটিতে ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি বা উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।

পাওয়ারআস শুধু সামরিক ড্রোন তৈরি করে না। সংস্থাটি সামরিক ও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিহত করার প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করে। সংস্থাটির অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অরিয়াস গ্রিনওয়ের সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগের সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে পাওয়ারআসের চুক্তিটি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দিক থেকেও বিশেষ নজর কেড়েছে।

গত কয়েক মাসে পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার আরও কয়েকটি নজির সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে মুনিরের ভূমিকার প্রশংসাও করেছিলেন ট্রাম্প। পরে পাকিস্তান ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করার কথাও জানিয়েছিল।

পাকিস্তানের জন্য এই সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ঋণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতার সমস্যায় রয়েছে। ফলে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো পাকিস্তানের কাছে শুধু নিরাপত্তা বা কূটনীতির বিষয় নয়; বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাজার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা আমদানিতে চিনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলে মার্কিন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোকে সামরিক সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ভারতের দিক থেকেও এই ড্রোন চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার দুই দেশের সামরিক কৌশলে প্রযুক্তিটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে পাকিস্তান যদি মার্কিন সংস্থার প্রযুক্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন বা উন্নয়ন ক্ষমতা বাড়াতে পারে, তা হলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুক্তির বিস্তারিত প্রযুক্তি ও প্রকৃত সরবরাহের পরিমাণ প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।

সব মিলিয়ে, ক্রিপ্টো থেকে ড্রোন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। পাওয়ারআসের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা সেই সম্পর্কের নতুন একটি দিক। এখন নজর থাকবে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ড্রোন সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদনের দিকে কতটা এগোয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks