সদ্য পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এক মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বেশ কিছু রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশ সেই চুক্তির দিকে পা বাড়াতে পারে! এরই মাঝে ভারতের পাকিস্তান সীমান্তে দেখা গেল তুরস্কের তৈরি ড্রোনের আনাগোনা। ভারতের এলএসির খুব কাছ দিয়ে পাকিস্তানের দিক থেকে তুরস্কের তৈরি ‘বৈরক্তার টিবি২’ নামাঙ্কিত ড্রোন উড়তে দেখা যায়। নিউজ ১৮ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে গোয়েন্দা সূত্রকে উল্লেখ করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতের সীমান্তের কাছে তুরস্কের তৈরি এই ড্রোনের ঘোরাফেরা ঘিরে প্রথমেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তার কারণ কী, তা নিয়ে। দ্বিতীয়ত, এই ড্রোন কতটা শক্তিশালী, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ‘বৈরক্তার টিবি২’ (Bayraktar TB2) হল মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে সক্ষম একটি সশস্ত্র ইউএভি (UAV), যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি অভিযানের পাশাপাশি নিখুঁত আঘাত হানতেও সক্ষম। এর ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবস্থা অপারেটরদের রিয়েল-টাইম ছবি বা দৃশ্য পাঠায় এবং অনবরত আকাশপথে নজরদারির সুযোগ দেয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এক রিপোর্ট দাবি করেছে যে, পাকিস্তানের দুই বিমানঘাঁটিতে ৩ দিনে বেশ কয়েকবার অবতরণ করেছে তুরস্কের যুদ্ধবিমান। ঘটনার দিকে নজর গিয়েছে নয়াদিল্লির। এরপরই উঠে এল, ভারতের সীমান্তের কাছে এই তুরস্কের ড্রোনের আনাগোনার খবর।
কেবল, ভারত সীমান্তের কাছে এই তুরস্ক নির্মিত সশস্ত্র ড্রোনের উপস্থিতি যেমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক, সেরকমই এই ড্রোনের দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি অভিযানের মাধ্যমে যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, সেটিও নজরে রয়েছে দিল্লির। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এসব ড্রোনের ওড়ার বিষয়টি পাকিস্তানি অপারেটরদের ওই এলাকার ভূ-প্রকৃতি, চলাচলের ধরন এবং স্পর্শকাতর অংশগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থার একটি বিস্তারিত চিত্র গড়ে তোলার সুযোগ করে দিতে পারে। ‘বৈরক্তার টিবি২’ নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম অস্ত্র বহন করতে পারে, অর্থাৎ, কোনও রকমের অভিযানের পরিস্থিতি তৈরি হলে, একটি নজরদারি মিশন প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক মিশনে রূপ নিতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মটিকে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের চালকবিহীন বিমানবহরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ‘মুরিদ’ বিমানঘাঁটিকে টিবি২ ও অন্যান্য ইউএভি কার্যক্রমের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের কাছাকাছি ,বিশেষ করে মুজাফফরাবাদ ও কোটলি সংলগ্ন এলাকায়,স্থল-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পরিকাঠামো ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। এই ধরনের অবস্থান, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর কাছে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানোর সুযোগ করে দিতে পারে। প্রসঙ্গত, ভারতও নিজের পাল্টা ড্রোন বহর আরও পোক্ত করছে। দিল্লি আগেই জানিয়েছে, যে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, ইনফ্রারেড সেন্সর, নজরদারি ক্যামেরা এবং সমন্বিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।