Frozen-Screen UPI Scam: বর্তমান সময়ে ইউপিআই করা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকানে পেমেন্ট করা হোক, বন্ধুদের সঙ্গে বিল ভাগ করে নেওয়া হোক বা অনলাইনে কেনাকাটা—কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইউপিআই-র মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায়। কিন্তু ইউপিআই-এর ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই অনলাইন প্রতারণার নতুন নতুন পদ্ধতিও সামনে আসছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও বিজ্ঞাপনে বা অচেনা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করার পরেই হঠাৎ ফোনের স্ক্রিন ফ্রিজ বা অকেজো হয়ে আটকে যাওয়া—বাইরে থেকে সাধারণ কোনও কারিগরি ত্রুটি মনে হলেও এর পেছনে থাকতে পারে সাইবার প্রতারকদের সুপরিকল্পিত ফাঁদ। সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে এহেন ডিজিটাল জালিয়াতি। সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীর মনে আতঙ্ক তৈরি করতে এবং বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ফোনের স্ক্রিন থমকে দিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাইবার প্রতারণা গতানুগতিক ফিশিংয়ের চেয়ে বহুগুণ বিপজ্জনক। প্রতারকরা ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রিমোট-অ্যাক্সেস টুল এবং অ্যান্ড্রয়েড পারমিশনের সমন্বয়ে ফোন হ্যাক করছে এবং ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে লেনদেনের অনুমোদন আদায় করে নিচ্ছে।
কুইক হিল টেকনোলজিসের (Quick Heal Technologies) সিইও হরিশ কুমার জানিয়েছেন, স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে যাওয়া কোনও আসল ঘটনা নয়, এটি আসলে নজর ঘোরানোর এক ধরণের চাল। ভুয়ো এরর মেসেজ, বিজ্ঞাপন কিংবা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা বোঝাতে চায় যে ব্যবহারকারীর ফোন, ব্যাঙ্কিং অ্যাপ বা ইউপিআই (UPI) অ্যাকাউন্টে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে তিনি বলেন, 'এরপর সমস্যা সমাধানের নামে, অথবা ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড কিংবা ভেরিফিকেশনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীকে একটি ভুয়া এপিকে (APK) ফাইল ইনস্টল করানোর জন্য প্রলুব্ধ করা হয়।'
ওই ক্ষতিকারক অ্যাপটি ইনস্টল হওয়া মাত্রই ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অ্যাক্সেসিবিলিটি ও নোটিফিকেশনের সংবেদনশীল অনুমতি হাতিয়ে নেয়। এর ফলে ফোনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, ওটিপি (OTP) পড়া, স্ক্রিনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ নকল করার ক্ষমতা চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। সেকরাইট ল্যাবসের তৈরি 'ইন্ডিয়া সাইবার থ্রেট রিপোর্ট ২০২৬'-এর সূত্র দিয়ে তিনি জানান, একাধিক ভুয়ো ইউটিলিটি অ্যাপ এভাবে এসএমএস, কল ও নোটিফিকেশন অ্যাক্সেস নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। সাইবার প্রতারকদের এই অত্যাধুনিক চক্রান্তে ইউপিআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সরাসরি ভাঙার কোনও প্রয়োজন পড়ে না। ফিউচারেক্স (Futurex)-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি রুচিন কুমার জানান, হ্যাকাররা মূলত ব্যবহারকারীর ডিভাইস, পাসওয়ার্ড, অথেন্টিকেশন এবং লেনদেনের পারিপার্শ্বিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত হানে।
{{/usCountry}}ওই ক্ষতিকারক অ্যাপটি ইনস্টল হওয়া মাত্রই ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অ্যাক্সেসিবিলিটি ও নোটিফিকেশনের সংবেদনশীল অনুমতি হাতিয়ে নেয়। এর ফলে ফোনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, ওটিপি (OTP) পড়া, স্ক্রিনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ নকল করার ক্ষমতা চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। সেকরাইট ল্যাবসের তৈরি 'ইন্ডিয়া সাইবার থ্রেট রিপোর্ট ২০২৬'-এর সূত্র দিয়ে তিনি জানান, একাধিক ভুয়ো ইউটিলিটি অ্যাপ এভাবে এসএমএস, কল ও নোটিফিকেশন অ্যাক্সেস নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। সাইবার প্রতারকদের এই অত্যাধুনিক চক্রান্তে ইউপিআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সরাসরি ভাঙার কোনও প্রয়োজন পড়ে না। ফিউচারেক্স (Futurex)-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি রুচিন কুমার জানান, হ্যাকাররা মূলত ব্যবহারকারীর ডিভাইস, পাসওয়ার্ড, অথেন্টিকেশন এবং লেনদেনের পারিপার্শ্বিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত হানে।
{{/usCountry}}তিনি বলেন, 'এসএমএস-ভিত্তিক ওটিপি চুরি, নকল অ্যাপ দিয়ে ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড নেওয়া, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাক্সেসিবিলিটির অপব্যবহার বা স্ক্রিন-শেয়ারিং অ্যাপ দিয়ে ফোনের সমস্ত তথ্য সরাসরি হ্যাকারদের লাইভ মনিটরিংয়ে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কে পড়ে ব্যবহারকারী নিজেই ইউপিআই পিন দিয়ে লেনদেন অনুমোদন করে ফেলেন।' ফলে আইনত লেনদেনটি ব্যবহারকারী নিজেই সম্পন্ন করেছেন বলে মনে হয়, যদিও বাস্তবে তা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ও মানসিক বিভ্রান্তির ফসল। ডেলকম টেলিসিস্টেমসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবীন্দ্র সিংয়ের মতে, প্রযুক্তিগত সমস্যার ভয় দেখিয়ে রিমোট-অ্যাক্সেস বা স্ক্রিন-শেয়ারিং অ্যাপ নামাতে বাধ্য করাই এই চক্রের প্রধান হাতিয়ার।
বিপদ এড়াতে কী করবেন?
ফোনে সন্দেহজনকভাবে স্ক্রিন আটকে গেলে অবিলম্বে মোবাইল ডেটা ও ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) বন্ধ করে দিন।
কোনও অবস্থাতেই ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড বা ইউপিআই পিন ইনপুট করবেন না।
কারিগরি সহায়তার দাবি করে অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও ফোন কলের নির্দেশ মেনে চলবেন না।
অবিলম্বে সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলুন, অ্যাপের অতিরিক্ত পারমিশন বাতিল করুন এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে ফোন স্ক্যান করুন।
ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়েছে মনে হলে দ্রুত অফিসিয়াল চ্যানেলে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং অন্য কোনও নিরাপদ ডিভাইস থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে কালবিলম্ব না করে সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ (1930)-এ অভিযোগ দায়ের করুন।
মনে রাখা প্রয়োজন—কোনও ব্যাঙ্ক বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কখনই সাধারণ ইউপিআই সমস্যা মেটাতে গ্রাহককে রিমোট-অ্যাক্সেস অ্যাপ নামাতে বা মোবাইল স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে না।