ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা কেবল একটি অলঙ্কার নয়, তা আভিজাত্যের প্রতীক। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি - সোনা কেনা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু আপনি কি জানেন, বাড়িতে ঠিক কতটা সোনা রাখলে আপনাকে আয়কর দফতরের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না? সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য এবং আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, সোনা রাখার নির্দিষ্ট সীমা এবং কর সংক্রান্ত বিষয়গুলি স্পষ্ট থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
আয়কর আইন কী বলে?
ভারতের আয়কর আইন অনুযায়ী, আপনার বাড়িতে সোনা রাখার কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নেই, যদি আপনি সেই সোনা কেনার বৈধ উৎস বা প্রমাণ দেখাতে পারেন। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি সঠিক বিল, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সোনা সংক্রান্ত কোনও আইনি নথি বা দানপত্র থাকে, তবে আপনি যত খুশি সোনা বাড়িতে রাখতে পারেন। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কোনও আয়ের উৎস ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়।
উৎস ছাড়াই সোনা রাখার সীমা
কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ডের তরফে জারি করা একটি নির্দেশিকায় (১৯৯৪ সালের ১১ মে) বলা হয়েছে যে আয়কর দফতরের তল্লাশির সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে না। এই সীমাগুলি হল -
১. বিবাহিত মহিলা: ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।
২. অবিবাহিত মহিলা: ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।
৩. পুরুষ (বিবাহিত বা অবিবাহিত): ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।
{{/usCountry}}৩. পুরুষ (বিবাহিত বা অবিবাহিত): ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।
{{/usCountry}}মনে রাখবেন, এই নিয়মটি কেবলমাত্র গয়নার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সোনার কয়েন বা বারের ক্ষেত্রে এই ছাড় সাধারণত পাওয়া যায় না।
কেন এই সীমা গুরুত্বপূর্ণ?
যদি কারও বাড়িতে আয়কর অভিযান চালানো হয়, তবে উপরোক্ত পরিমাণের সোনা থাকলে আধিকারিকরা তা বাজেয়াপ্ত করবেন না। তবে এর বেশি সোনা থাকলে আপনাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে সেই সোনা আপনি কীভাবে কিনেছেন বা পেয়েছেন। আপনি যদি বৈধ আয়ের টাকা দিয়ে সোনা কেনেন এবং আয়কর রিটার্নে তা উল্লেখ থাকে, তবে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।
সোনা এবং কর
সোনা কেনার সময় যেমন জিএসটি দিতে হয়, তেমনই সোনা বিক্রির সময়ও কর দিতে হয়। আপনি যদি কেনার তিন বছরের মধ্যে সোনা বিক্রি করেন, তবে সেটি 'শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন' (STCG) হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনার আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে। আর যদি তিন বছর পর বিক্রি করেন, তবে ২০ শতাংশ 'লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন' (LTCG) ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে (ইনডেক্সেশন সুবিধা-সহ)।
ডিজিটাল গোল্ড ও বন্ডের সুবিধা
ফিজিক্যাল গোল্ড বাড়িতে রাখা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই এর ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়াও কিছুটা জটিল। বর্তমান সময় বিশেষজ্ঞরা 'সোভেরিয়ান গোল্ড বন্ড' বা ‘গোল্ড ইটিএফ’-তে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন। গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ২.৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যায় এবং ম্যাচিওরিটির পর প্রাপ্ত অর্থের উপর কোনও ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয় না।
সতর্কতা ও টিপস
১) বিল সংরক্ষণ করুন: আপনি যখনই সোনা কিনবেন, তার পাকা বিল অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখুন।
২) উত্তরাধিকার সূত্র: যদি পূর্বপুরুষের সোনা আপনার কাছে থাকে, তবে পরিবারের বন্টননামা বা কোনো আইনি নথি থাকলে তা গুছিয়ে রাখুন।
৩) আইটিআর ফাইল: আপনার আয় যদি বেশি হয় এবং আপনার কাছে প্রচুর সোনা থাকে, তবে তা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা বুদ্ধিমানের কাজ।