...
...
Next Story

Gold limit at home in India: বাড়িতে কতটুকু সোনা রাখা যায়? আয়কর দফতর ধরবেও না, বিবাহিত মহিলাদের কতটা পারেন?

সোনা কেনা বা রাখা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। আয়কর দফতরের নিয়ম মেনে চললে আপনি আপনার কষ্টের উপার্জনে কেনা সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

Published on: Mar 3, 2026, 14:28:31 IST
Advertisement

ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা কেবল একটি অলঙ্কার নয়, তা আভিজাত্যের প্রতীক। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি - সোনা কেনা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু আপনি কি জানেন, বাড়িতে ঠিক কতটা সোনা রাখলে আপনাকে আয়কর দফতরের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না? সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য এবং আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, সোনা রাখার নির্দিষ্ট সীমা এবং কর সংক্রান্ত বিষয়গুলি স্পষ্ট থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আয়কর আইন কী বলে?

সোনা কেনা বা রাখা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে রয়টার্স)
সোনা কেনা বা রাখা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে রয়টার্স)

ভারতের আয়কর আইন অনুযায়ী, আপনার বাড়িতে সোনা রাখার কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নেই, যদি আপনি সেই সোনা কেনার বৈধ উৎস বা প্রমাণ দেখাতে পারেন। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি সঠিক বিল, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সোনা সংক্রান্ত কোনও আইনি নথি বা দানপত্র থাকে, তবে আপনি যত খুশি সোনা বাড়িতে রাখতে পারেন। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কোনও আয়ের উৎস ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়।

উৎস ছাড়াই সোনা রাখার সীমা

কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ডের তরফে জারি করা একটি নির্দেশিকায় (১৯৯৪ সালের ১১ মে) বলা হয়েছে যে আয়কর দফতরের তল্লাশির সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে না। এই সীমাগুলি হল -

১. বিবাহিত মহিলা: ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।

২. অবিবাহিত মহিলা: ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার রাখতে পারেন।

মনে রাখবেন, এই নিয়মটি কেবলমাত্র গয়নার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সোনার কয়েন বা বারের ক্ষেত্রে এই ছাড় সাধারণত পাওয়া যায় না।

কেন এই সীমা গুরুত্বপূর্ণ?

যদি কারও বাড়িতে আয়কর অভিযান চালানো হয়, তবে উপরোক্ত পরিমাণের সোনা থাকলে আধিকারিকরা তা বাজেয়াপ্ত করবেন না। তবে এর বেশি সোনা থাকলে আপনাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে সেই সোনা আপনি কীভাবে কিনেছেন বা পেয়েছেন। আপনি যদি বৈধ আয়ের টাকা দিয়ে সোনা কেনেন এবং আয়কর রিটার্নে তা উল্লেখ থাকে, তবে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

সোনা এবং কর

সোনা কেনার সময় যেমন জিএসটি দিতে হয়, তেমনই সোনা বিক্রির সময়ও কর দিতে হয়। আপনি যদি কেনার তিন বছরের মধ্যে সোনা বিক্রি করেন, তবে সেটি 'শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন' (STCG) হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনার আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে। আর যদি তিন বছর পর বিক্রি করেন, তবে ২০ শতাংশ 'লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন' (LTCG) ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে (ইনডেক্সেশন সুবিধা-সহ)।

ডিজিটাল গোল্ড ও বন্ডের সুবিধা

ফিজিক্যাল গোল্ড বাড়িতে রাখা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই এর ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়াও কিছুটা জটিল। বর্তমান সময় বিশেষজ্ঞরা 'সোভেরিয়ান গোল্ড বন্ড' বা ‘গোল্ড ইটিএফ’-তে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন। গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ২.৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যায় এবং ম্যাচিওরিটির পর প্রাপ্ত অর্থের উপর কোনও ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয় না।

সতর্কতা ও টিপস

১) বিল সংরক্ষণ করুন: আপনি যখনই সোনা কিনবেন, তার পাকা বিল অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখুন।

২) উত্তরাধিকার সূত্র: যদি পূর্বপুরুষের সোনা আপনার কাছে থাকে, তবে পরিবারের বন্টননামা বা কোনো আইনি নথি থাকলে তা গুছিয়ে রাখুন।

৩) আইটিআর ফাইল: আপনার আয় যদি বেশি হয় এবং আপনার কাছে প্রচুর সোনা থাকে, তবে তা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe