Gold-Silver Price Prediction Report: এই সপ্তাহে সোনা ও রুপোর দামের ওঠানামা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনার উপর নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকার মূল্যস্ফীতির তথ্য, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যবান ধাতুর বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ আগামী দিনে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলির মধ্যে রয়েছে আমেরিকার Consumer Price Index বা CPI। আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির রিপোর্ট আগামী ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিপোর্টের উপর সোনার বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে। মূল্যস্ফীতি যদি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হয়, তাহলে সুদের হার নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হতে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে সোনা ও রুপোর দামে।
JM Financial Services-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রণব মের জানিয়েছেন, সোনার ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫৭ লক্ষ টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স বা বাধার স্তর হতে পারে। অন্যদিকে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২.৩১ লক্ষ টাকার উপরে থাকলে বাজারে এখনও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
গত সপ্তাহে দেশীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা কমেছে। Multi Commodity Exchange বা MCX-এ অক্টোবর ডেলিভারির সোনার ফিউচার প্রায় ৩,৫১৪ টাকা বা ২.২ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৫২ লক্ষ টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে রুপোর দামও প্রায় ৪,৭৮৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমে প্রতি কেজিতে ২.৩৭ লক্ষ টাকায় দাঁড়ায়।
বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ ছিল লাভ তুলে নেওয়া বা profit booking। LKP Securities-এর জতীন ত্রিবেদী জানিয়েছেন, সপ্তাহের প্রথম দিকে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছিল এবং আগের সপ্তাহের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ লাভ তুলে নেওয়ায় চাপ তৈরি হয়।
{{/usCountry}}বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ ছিল লাভ তুলে নেওয়া বা profit booking। LKP Securities-এর জতীন ত্রিবেদী জানিয়েছেন, সপ্তাহের প্রথম দিকে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছিল এবং আগের সপ্তাহের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ লাভ তুলে নেওয়ায় চাপ তৈরি হয়।
{{/usCountry}}আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে দুর্বলতা দেখা গেছে। নিউইয়র্কের Comex বাজারে ডিসেম্বর ডেলিভারির সোনার দাম প্রায় ৫৩.৩ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৪৭৬.৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রুপোর দামও প্রায় ১.৫২ শতাংশ কমে ৬৬.৭৫ ডলার প্রতি আউন্স হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী চাকরির তথ্য ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে সোনার মতো সুদ না দেওয়া সম্পদের উপর চাপ তৈরি হয়।
তবে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংকট বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। বাজার বিশেষজ্ঞ গৌরব গর্গের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ এখন সরাসরি ‘safe haven’ চাহিদা তৈরি না করে বরং সুদের হার সংক্রান্ত ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে চিনও নিয়মিত সোনা কিনছে। World Gold Council-এর তথ্য অনুযায়ী, চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ২০ টন সোনা কিনেছে। এর ফলে টানা ২১ মাস ধরে তাদের সোনা কেনার ধারা বজায় রয়েছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত চিনের কেনা সোনার পরিমাণ ৬০ টন এবং দেশটির মোট সোনার মজুত বেড়ে হয়েছে ২,৩৬৬ টন।
সব মিলিয়ে, এই সপ্তাহে সোনা-রুপোর বাজারে অস্থিরতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বরের মার্কিন মূল্যস্ফীতির রিপোর্ট, ফেডের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বাজারের পরবর্তী দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।