২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ নিয়ে দেশজুড়ে গাড়ির মালিকদের উদ্বেগের মধ্যেই পুরনো গাড়ির জন্য কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির বিকল্প দেওয়ার পথ খুঁজছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েলের এক্সপি৯৫, ভারত পেট্রোলিয়ামের স্পিড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের পাওয়ার৯৫-এর মতো ৯৫-অকটেনের প্রিমিয়াম পেট্রলকে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ই-১০ হিসেবে বিক্রি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গোটা বিষয়টি আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সঙ্গে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে বলে খবর। মূল উদ্দেশ্য, পুরনো গাড়ির মালিকদের জন্য কম ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ফের চালু করা, কিন্তু তার জন্য দেশজুড়ে আলাদা জ্বালানি পরিকাঠামো তৈরি না করা।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো ই-২০ পেট্রলই মূল জ্বালানি। কিন্তু পুরনো গাড়ির মালিকদের একাংশের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত গাড়িতে এই জ্বালানি কতটা উপযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব গাড়ি ই-১০ ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছিল, সেগুলির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি।
কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছে, ই-২০ ব্যবহারের কারণে ব্যাপক হারে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা বড় ধরনের ক্ষতির কোনও প্রমাণ নেই। জুলাই মাসে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ই-১০ ব্যবহারের জন্য তৈরি গাড়িতে ই-২০ ব্যবহার করলে জ্বালানি সাশ্রয় বা মাইলেজে প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সামান্য কমতি হতে পারে। তবে গাড়ির মডেল, বয়স এবং গাড়ি চালানোর ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব আলাদা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ৯৫-অকটেনের প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই-১০ হিসেবে বিক্রি করার ভাবনা সামনে এসেছে। এতে নতুন করে আলাদা ট্যাঙ্ক, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা পাম্প পরিকাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন কমবে। কারণ এই ধরনের প্রিমিয়াম পেট্রল ইতিমধ্যেই দেশের বহু পেট্রল পাম্পে বিক্রি হয়।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে ৯৫-অকটেনের প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই-১০ হিসেবে বিক্রি করার ভাবনা সামনে এসেছে। এতে নতুন করে আলাদা ট্যাঙ্ক, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা পাম্প পরিকাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন কমবে। কারণ এই ধরনের প্রিমিয়াম পেট্রল ইতিমধ্যেই দেশের বহু পেট্রল পাম্পে বিক্রি হয়।
{{/usCountry}}প্রিমিয়াম পেট্রলের বিক্রিও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মোট পেট্রল বিক্রির প্রায় ১৫ শতাংশই এই ধরনের প্রিমিয়াম জ্বালানি। মার্চ মাসে এই হার ছিল মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। ই-২০ নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক গাড়িচালক ইতিমধ্যেই বেশি অকটেনের প্রিমিয়াম পেট্রলের দিকে ঝুঁকছেন।
এই প্রিমিয়াম পেট্রল বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রল পাম্পে পাওয়া যায়। দিল্লিতে এর দাম লিটারপিছু প্রায় ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, যেখানে সাধারণ পেট্রলের দাম প্রায় ১০২ টাকা। ফলে প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই-১০ হিসেবে দেওয়া হলে পুরনো গাড়ির মালিকরা কম ইথানলযুক্ত জ্বালানি পাবেন ঠিকই, কিন্তু তার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও ই-২০-এর পাশাপাশি ই-১০ বিকল্প রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুরনো গাড়ির মালিকদের উদ্বেগ দূর করতে তাঁদের জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা দরকার।
তবে একসঙ্গে সাধারণ পেট্রল, ই-১০ এবং ই-২০ দেশজুড়ে সরবরাহ করতে আলাদা পরিকাঠামো তৈরি হলে বাড়তি খরচ এবং জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তাই বিদ্যমান প্রিমিয়াম পেট্রলের পরিকাঠামো ব্যবহার করে ই-১০ দেওয়ার পরিকল্পনা সেই সমস্যার একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে।
গ্রাহক সংগঠনগুলির দাবি, গাড়ির বয়স ও প্রযুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি বেছে নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। সেই সঙ্গে ই-১০ এবং ই-২০ পেট্রলের বোতল বা পাম্পে স্পষ্টভাবে আলাদা পরিচয় দেওয়ারও দাবি উঠেছে।
এখন নজর কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই-১০ হিসেবে বাজারে আনার সিদ্ধান্ত হলে পুরনো গাড়ির মালিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে সেই জ্বালানি কতটা সহজলভ্য হবে এবং তুলনামূলক বেশি দাম গ্রাহকরা কতটা গ্রহণ করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।