Onion Price Control: হু হু করে বাড়ছে দাম। মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে চাপ বাড়ছে (Onion Price Hike)। দেশের বেশ কিছু বাজারে ইতিমধ্যেই ৫০ টাকার গণ্ডি পার করেছে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দামে বড়সড় ফারাক দেখা দেওয়ার পর এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

জানা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে সরকারি বাফার স্টক থেকে ধাপে ধাপে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Buffer stock)। পাশাপাশি, রেল এবং সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। সোমবার থেকেই নাসিক থেকে দিল্লি, চেন্নাই, কোচি ও গুয়াহাটির মতো তুলনামূলক বেশি দামের শহরগুলিতে পেঁয়াজ পাঠাতে চালু হয়েছে বিশেষ ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেন। ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে নয়া দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে প্রথম ‘কান্দা এক্সপ্রেস।’ সরকারের লক্ষ্য, যেখানে জাতীয় গড়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বেশি, সেখানে সরবরাহ বাড়িয়ে খুচরো বাজারের চাপ কমানো।
কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল সরকারি মজুত থেকে ধাপে ধাপে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে না এনে পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পিত বা ক্যালিব্রেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে একদিকে বাজারে জোগান বাড়বে, অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর কোনও প্রবণতা থাকলে তাতেও লাগাম দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ
সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সরকারি বাফার স্টক এবং কৃষকদের হাতে রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে আনুমানিক ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন। আগের বছরও উৎপাদন ছিল ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন। এদিকে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য ২ লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফার স্টক সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৫ মে থেকে এনএএফইডি (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)-এর মাধ্যমে সেই সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.২১ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রথমবার সেন্ট্রাল ওয়ারহাউসিং কর্পোরেশন (Central Warehousing Corporation)-কে বাফার স্টকের পেঁয়াজ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩৫ কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি
{{/usCountry}}সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সরকারি বাফার স্টক এবং কৃষকদের হাতে রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে আনুমানিক ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন। আগের বছরও উৎপাদন ছিল ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন। এদিকে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য ২ লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফার স্টক সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৫ মে থেকে এনএএফইডি (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)-এর মাধ্যমে সেই সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.২১ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রথমবার সেন্ট্রাল ওয়ারহাউসিং কর্পোরেশন (Central Warehousing Corporation)-কে বাফার স্টকের পেঁয়াজ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩৫ কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি
{{/usCountry}}সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। এনসিসিএফ, এনএএফইডি, সফল এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের বিভিন্ন আউটলেট ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
উৎসবের মরসুমে দাম বাড়ার আশঙ্কা
কেন্দ্রের বক্তব্য, ওনাম, গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা, দিওয়ালি এবং বিয়ের মরসুমে সাধারণত পেঁয়াজের চাহিদা অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে যায়। ফলে এই সময় পেঁয়াজের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আগেভাগেই বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
'কান্দা এক্সপ্রেস'-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ পরিবহণের জন্য ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখান থেকে রেলপথে দ্রুত পেঁয়াজ সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিবহণের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি ঘাটতি থাকা বাজারে দ্রুত সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। গত বছর ১৪টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ১২,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ৫টি শহরে পাঠানো হয়েছিল। এই বছর সেই পরিষেবা আরও বড় আকার নিয়েছে। মোট ৮৬টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ৮৮,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ১৬টি শহরে পাঠানো হচ্ছে। নাসিক থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে প্রথম ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কপথেও চেন্নাই, কলকাতা, এর্নাকুলাম, গুয়াহাটি, বারাণসী, লখনউ, পাটনা, চণ্ডীগড়, জম্মু এবং অমৃতসরে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে।
বিদেশেও রফতানি অব্যাহত
দেশে পেঁয়াজের জোগান পর্যাপ্ত থাকার কারণে বিদেশেও রফতানিও চালু রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৩.৮২ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেপালের মতো দেশে পেঁয়াজ রফতানি করা হয়েছে।
নিয়মিত নজরদারি
পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতর দেশের মোট ৫৭৯টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪১টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করছে। পেঁয়াজের বাজারদর, বাজারে সরবরাহ, চাহিদা এবং আমদানির পরিস্থিতি দেখে বাফার স্টক থেকে কতটা পেঁয়াজ কোথায় পাঠানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে সরকার। কেন্দ্র জানিয়েছে, টমেটো, আলু এবং ছোলা ডালের দাম গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও পেঁয়াজের দাম, সরবরাহ ও চাহিদার উপর নজর রাখা হবে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ করা হবে।