Govt Employees New Pay Commission Update: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহুল প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৮ মাসের কার্যকালের অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে কমিশন। গত নয় মাসে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, দফতর এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শের পর এবার কমিশন দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করছে। আগামী কয়েক মাসের বৈঠকে মূল গুরুত্ব পাবে পেনশন, অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি।

২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কমিশনের অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন। কমিশনের পরবর্তী দফার পরামর্শ বৈঠক শুরু হবে দিল্লি থেকে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে বৈঠক চলবে। এরপর পর্যায়ক্রমে চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হবে। জয়পুরে বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর।
এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিষদ-যৌথ পরামর্শদাতা মঞ্চ (NC-JCM)-এর জমা দেওয়া স্মারকলিপিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই স্মারকলিপিতে অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার, পেনশনে সমতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কল্যাণে একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিশন সূত্রের মতে, এই সুপারিশগুলির উপরই আগামী বৈঠকগুলিতে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাস অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংগঠনের মতামত ও সুপারিশ পর্যালোচনা করার পর কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মে অথবা জুন মাসের মধ্যে কমিশন তাদের সুপারিশ কেন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দিতে পারে। এরপর সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সরকার বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য পরিষেবা-সংক্রান্ত শর্তাবলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এবারের কমিশনেও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে **ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর**। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে এই হার ছিল ১.৮৬, আর সপ্তম বেতন কমিশনে তা বাড়িয়ে ২.৫৭ করা হয়েছিল। অষ্টম বেতন কমিশনে এই হার কত নির্ধারণ করা হবে, তার উপরই নির্ভর করবে কর্মচারীদের মূল বেতন কতটা বৃদ্ধি পাবে। ফলে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর নজর এখন এই সুপারিশের দিকেই।
{{/usCountry}}এবারের কমিশনেও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে **ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর**। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে এই হার ছিল ১.৮৬, আর সপ্তম বেতন কমিশনে তা বাড়িয়ে ২.৫৭ করা হয়েছিল। অষ্টম বেতন কমিশনে এই হার কত নির্ধারণ করা হবে, তার উপরই নির্ভর করবে কর্মচারীদের মূল বেতন কতটা বৃদ্ধি পাবে। ফলে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর নজর এখন এই সুপারিশের দিকেই।
{{/usCountry}}এদিকে, এনসি-জেসিএম তাদের স্মারকলিপিতে পুরনো পেনশন প্রকল্প (Old Pension Scheme বা OPS) পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, অবসরের পরে নিশ্চিত পেনশনের ব্যবস্থা থাকলে কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৯,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০,০০০ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ৯,০০০ টাকা পর্যাপ্ত নয়।
উল্লেখ্য, ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশনের সুপারিশই পরবর্তী এক দশকের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ভিত্তি নির্ধারণ করে। তাই অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিটি বৈঠক ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার দিকে এখন কর্মচারী এবং পেনশনভোগী—উভয় মহলেরই কড়া নজর রয়েছে।