UPSC Success Story: বন্দুকের গর্জন, দুর্গম গিরিখাত, বিক্ষিপ্ত জনবসতি, আর ডাকাতদের ইতিহাস-এক সময় এই পরিচয়ই ছিল মধ্যপ্রদেশের চম্বলের। সেই চম্বলের মোরেনা জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে এবার দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় তাক লাগিয়ে দিলেন দেব প্রভাকর সিং তোমর। যে পরিবারের ইতিহাসে জড়িয়ে রয়েছে ডাকাতদের গল্প, সেই পরিবারের সন্তানই ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ৬২৯তম স্থান অর্জন করে ভারতীয় রেলের ট্রাফিক সার্ভিসে (IRTS) নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। তাঁর এই কাহিনী বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াই, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের এক যন্ত্রণাদায়ক অতীতের ছায়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার গল্প; যা কাটিয়ে ওঠা মোটেও সহজ ছিল না। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেব প্রভাকর সিং তোমর নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন।

কোনও বড় কোচিং সেন্টারে না গিয়ে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে দেব প্রভাকর সিং তোমর আইআইটি রোপার-এ (IIT Ropar) ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে চাকরি পান তিনি ইউরোপের নামী সংস্থা ‘ফিলিপস’-এ এবং পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে। আমস্টারডামের সাজানো-গোছানো জীবন ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাঁর সামনে উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু দেশের মাটিতে ফিরে সিভিল সার্ভিসেসের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন তাঁকে তাড়া করে ফিরছিল। সেই জেদ থেকেই ইউরোপের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে তিনি ভারতে ফিরে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেন।
তবে সাফল্য তাঁর কাছে সহজেই ধরা দেয়নি। প্রথম দুটি প্রচেষ্টায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সামান্য নম্বরের জন্য ব্যর্থ হতে হয়েছিল। এরপর তৃতীয়বারে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছেও শেষ তালিকায় নাম না ওঠার চূড়ান্ত হতাশা সইতে হয়। কিন্তু হাল না ছেড়ে দিল্লিতে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি লড়াই জারি রাখেন তিনি। অবশেষে ২০২৫-এর ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৬২৯ অধিকার করে দেব প্রভাকর সিং তোমর স্বপ্ন পূরণ করেন এবং বর্তমানে রেল মন্ত্রকের অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেব প্রভাকরের এই লড়াই আসলে তিন প্রজন্মের বদলের গল্প। জোশ টকস-এ তিনি বলেন, প্রায় ৭৫ বছর আগে পারিবারিক টানাপোড়েন ও স্থানীয় সংঘাতের জেরে তাঁর ঠাকুরদা বাধ্য হয়ে চম্বলের গিরিখাতে আত্মগোপন করেন, স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘বাগী’ বলা হয়। সেই সিদ্ধান্তের কারণে গোটা পরিবার তীব্র দারিদ্রের মুখোমুখি হয়েছিল, এমনকী দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁর কাকাও সেই পথেই হাঁটেন। তবে দেব প্রভাকরের বাবা সেই অন্ধকার চক্র থেকে বের হতে চেয়েছিলেন। তিনি পরিবারকে না জানিয়েই গোয়ালিওরে পালিয়ে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। বাবার দেখানো সেই শিক্ষার আলোকেই জীবনের মূল লক্ষ্য করে তোলেন দেব প্রভাকর। বাবার এই সিদ্ধান্ত ছেলেকে উৎকর্ষের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা ও সঙ্কল্পের মাধ্যমে দেব প্রভাকর নেদারল্যান্ডসে ফিলিপস কোম্পানির সদর দফতরে ৮৮ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজ-সহ বিজ্ঞানী হিসেবে একটি আকর্ষণীয় চাকরি পান। কিন্তু সেই চাকরিও হেলায় ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন দেব। অবশেষে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প ফলপ্রসূ হয় যখন তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন। ঠাকুরদার হাতে ছিল বন্দুক, বাবা বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষার পথ, আর নাতি প্রবেশ করলেন দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক সেবায়-চম্বলের বুকে লেখা হল পারিবারিক উত্তরণের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।
{{/usCountry}}দেব প্রভাকরের এই লড়াই আসলে তিন প্রজন্মের বদলের গল্প। জোশ টকস-এ তিনি বলেন, প্রায় ৭৫ বছর আগে পারিবারিক টানাপোড়েন ও স্থানীয় সংঘাতের জেরে তাঁর ঠাকুরদা বাধ্য হয়ে চম্বলের গিরিখাতে আত্মগোপন করেন, স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘বাগী’ বলা হয়। সেই সিদ্ধান্তের কারণে গোটা পরিবার তীব্র দারিদ্রের মুখোমুখি হয়েছিল, এমনকী দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁর কাকাও সেই পথেই হাঁটেন। তবে দেব প্রভাকরের বাবা সেই অন্ধকার চক্র থেকে বের হতে চেয়েছিলেন। তিনি পরিবারকে না জানিয়েই গোয়ালিওরে পালিয়ে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। বাবার দেখানো সেই শিক্ষার আলোকেই জীবনের মূল লক্ষ্য করে তোলেন দেব প্রভাকর। বাবার এই সিদ্ধান্ত ছেলেকে উৎকর্ষের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা ও সঙ্কল্পের মাধ্যমে দেব প্রভাকর নেদারল্যান্ডসে ফিলিপস কোম্পানির সদর দফতরে ৮৮ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজ-সহ বিজ্ঞানী হিসেবে একটি আকর্ষণীয় চাকরি পান। কিন্তু সেই চাকরিও হেলায় ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন দেব। অবশেষে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প ফলপ্রসূ হয় যখন তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন। ঠাকুরদার হাতে ছিল বন্দুক, বাবা বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষার পথ, আর নাতি প্রবেশ করলেন দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক সেবায়-চম্বলের বুকে লেখা হল পারিবারিক উত্তরণের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।
{{/usCountry}}