আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট নিকোবর দ্বীপে একটি অত্যাধুনিক (সামরিক ও অসামরিক) বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এই প্রকল্পটি বৃহত্তর গ্রেট নিকোবার আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টের অংশ এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এদিকে এই গ্রেট নিকোবার আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট নিয়ে রাহুল গান্ধী তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে। তবে বিজেপির বক্তব্য, এই প্রকল্পের ফলে ভারত কৌশলগত ভাবে লাভবান হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত বিমানবন্দরটি ভারতীয় নৌবাহিনী এবং অসামরিক বিমান চলাচল—উভয়ের জন্যই ব্যবহার করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক যৌথভাবে প্রকল্পের অর্থায়ন করবে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব এর কৌশলগত অবস্থান। গ্রেট নিকোবর দ্বীপ মালাক্কা প্রণালীর খুব কাছাকাছি অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই অঞ্চলে শক্তিশালী বিমানঘাঁটি গড়ে উঠলে ভারত ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নজরদারি এবং সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারবে।
সূত্রের খবর, বিমানবন্দরটি চালু হলে তা শুধু সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেই নয়, দ্বীপপুঞ্জে যোগাযোগ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রকল্পটি ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে। গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর ছাড়াও বন্দর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং নতুন টাউনশিপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের মতে, এই উদ্যোগ ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী এই বিমানবন্দর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দ্রুত মোতায়েন ও নজরদারি সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।