নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই আরও একটি দাবি ঘিরে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নাকি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এমনই দাবি করে একটি চিঠি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে যে চিঠিটি ছড়িয়েছে সেটি ভুয়ো এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল যে জ্ঞানেশ কুমার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। চিঠিতে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে একাধিক আবেগপূর্ণ বক্তব্যও রাখা হয়েছিল। ফলে দ্রুতই তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানান, এমন কোনও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চিঠিটিকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি কমিশন জানায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ওই চিঠিতে বিশ্বাস না করার আবেদনও করা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এমন দাবি সামনে আসার পিছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে বিরোধী দলগুলির একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যেই কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশীর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতপার্থক্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত কয়েক মাসে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার পদ্ধতি, ফর্ম ৬-এর কিছু পরিবর্তন এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সকলের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে এবং মতপার্থক্য থাকলেও তাকে সংঘাত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
{{/usCountry}}ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত কয়েক মাসে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার পদ্ধতি, ফর্ম ৬-এর কিছু পরিবর্তন এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সকলের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে এবং মতপার্থক্য থাকলেও তাকে সংঘাত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
{{/usCountry}}এই বিতর্কের পরেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর ইস্তফা চেয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে এখনও জ্ঞানেশ কুমারকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ফলে আপাতত স্পষ্ট, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দেওয়ার যে চিঠি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সত্য নয় বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিটি ঘিরে জল্পনা থাকলেও সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি এখনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদেই রয়েছেন।