রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে হাফিজ সইদ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেন ভারতীয় সাংবাদিকেরা। কিন্তু দু’বার প্রশ্নের মুখে পড়েও কোনও জবাব দিলেন না পাক প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনকে ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে ঢোকার সময় এক সাংবাদিক শাহবাজকে প্রশ্ন করেন, ‘কবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?’ প্রশ্ন শুনেও কোনও উত্তর দেননি তিনি। পরে বৈঠক শেষে দফতর থেকে বেরোনোর সময় আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?’ এ বারও মুখ খোলেননি পাক প্রধানমন্ত্রী।
হাফিজ সইদকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বিতর্ক বহু পুরনো। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তালিকায় হাফিজ মহম্মদ সইদকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, অর্থাৎ ইউএপিএ-র অধীনে ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের নথিতে ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলাসহ একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
এর মধ্যেই হাফিজ সইদকে ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে পহেলগাঁও হামলা মামলা। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। ২০২৬ সালের ৬ জুলাই জমা দেওয়া অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ হাফিজ সইদকে অভিযুক্ত করেছে। এনআইএ-র দাবি, লস্কর-ই-তইবা এবং তাদের সক্রিয় প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এবং ব্যক্তিগত ভাবেও সইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ইউএপিএ-র বিভিন্ন ধারায় সইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, সীমান্তের ওপার থেকে হামলার ষড়যন্ত্র এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগও চার্জশিটে রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}এনআইএ জানিয়েছে, মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ইউএপিএ-র বিভিন্ন ধারায় সইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, সীমান্তের ওপার থেকে হামলার ষড়যন্ত্র এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগও চার্জশিটে রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}এই আবহেই পাকিস্তানকে রাষ্ট্রসংঘে তীব্র আক্রমণ করেছে ভারত। জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-তে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, অন্যের ভূখণ্ড নিয়ে দাবি বা সীমান্তপার সন্ত্রাসের বদলে পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে মন দেওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ঋণ ও আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি নিয়ে পাকিস্তানের এই ধরনের অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করবে না।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ, সাধারণ মানুষের মৃত্যু, গ্রেফতার এবং খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহে বাধা নিয়েও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে ভারত। ক্ষিতিজের বক্তব্য, মানবাধিকার পরিষদে যে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছে, সেই পাকিস্তানেরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজরদারির মুখে থাকা উচিত।