ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও এভিয়েশন উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হতে চলেছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং পবন হংসের হাতে একাধিক দেশীয় বিমান ও হেলিকপ্টার তুলে দেবে। এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য LCA তেজসের Final Operational Clearance বা FOC টুইন-সিটার ট্রেনার এবং HTT-40 বেসিক ট্রেনার বিমান হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি পবন হংস লিমিটেডের হাতে দেওয়া হবে ধ্রুব Next Generation বা Dhruv NG হেলিকপ্টার।
বেঙ্গালুরুর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু। এছাড়াও বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সচিব সঞ্জীব কুমার, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব সমীর কুমার সিনহা এবং HAL-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে-সহ প্রতিরক্ষা ও এভিয়েশন ক্ষেত্রের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তেজসের টুইন-সিটার সংস্করণ মূলত বায়ুসেনার পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল ট্রেনিংয়ের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশেই তৈরি এই বিমানটি তেজস কর্মসূচির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে তুলে ধরছে। এর আগে সরকার জানিয়েছে, তেজসের টুইন-সিটার বিমান পাইলট প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে যুদ্ধবিমান হিসেবেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে। এতে আধুনিক অ্যাভিয়নিক্স, ডিজিটাল ফ্লাইট কন্ট্রোল এবং উন্নত কম্পোজিট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে HTT-40 হল HAL-এর তৈরি দেশীয় বেসিক ট্রেনার বিমান। নতুন প্রজন্মের বায়ুসেনা পাইলটদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য এই বিমান তৈরি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ৭০টি HTT-40 কেনার জন্য HAL-এর সঙ্গে ৬,৮২৮.৩৬ কোটি টাকার চুক্তি অনুমোদন করেছিল। বিমানটি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত এবং এর নকশায় কম গতিতে ভালো নিয়ন্ত্রণ ও প্রশিক্ষণ কার্যকারিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, অসামরিক বিমান পরিষেবাতেও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে এই অনুষ্ঠান। পবন হংসের হাতে ধ্রুব NG হেলিকপ্টার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে HAL-এর প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার যে সামরিকের পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষেত্রেও বাড়ানো হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্রুব NG মূলত দেশীয় হেলিকপ্টার প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ এবং পবন হংসের মতো সংস্থার মাধ্যমে এর অসামরিক ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
{{/usCountry}}শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, অসামরিক বিমান পরিষেবাতেও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে এই অনুষ্ঠান। পবন হংসের হাতে ধ্রুব NG হেলিকপ্টার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে HAL-এর প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার যে সামরিকের পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষেত্রেও বাড়ানো হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্রুব NG মূলত দেশীয় হেলিকপ্টার প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ এবং পবন হংসের মতো সংস্থার মাধ্যমে এর অসামরিক ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
{{/usCountry}}প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, এই হস্তান্তর শুধু কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়। এর মাধ্যমে ভারতের নিজস্ব ডিজাইন, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে সামনে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ বিমান এবং হেলিকপ্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মের জন্য বিদেশি প্রযুক্তি ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করেছে। সেই জায়গায় তেজস, HTT-40 এবং ধ্রুব NG-এর মতো দেশীয় প্ল্যাটফর্মের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো হলে ভারতের নিজস্ব এয়ারোস্পেস ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে দেশীয় উৎপাদনের এই অগ্রগতি বজায় রাখতে নিয়মিত সরবরাহ, শক্তিশালী সাপ্লাই চেন এবং সময়মতো উৎপাদন ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বেঙ্গালুরুর এই হস্তান্তর অনুষ্ঠান তাই ভারতের প্রতিরক্ষা ও অসামরিক বিমান উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য একটি প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তেজস থেকে HTT-40, আর ধ্রুব NG থেকে দেশীয় এভিয়েশন ইকোসিস্টেম—একই অনুষ্ঠানে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার একাধিক দিক সামনে আসতে চলেছে।