Indian Defence System: প্রযুক্তিগত কারণে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA)-এর প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক কাঠামো তৈরির যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)। এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। ফলে এই প্রথমবার কোনও দেশীয় যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প থেকে বাদ পড়ল হ্যাল।

রবিবার নয়া দিল্লিতে ‘এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬’-এর এক সাক্ষাৎকারে আর কে সিং জানান, হ্যাল 'বেশ কিছু সাধারণ প্রযুক্তিগত কারণে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, যা তারা কোনও কারণে পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।' তবে সেই প্রযুক্তিগত কারণগুলো ঠিক কী ছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ভবিষ্যৎ-প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্মটি তৈরির পথ বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, 'আমরা দেশে সব ডিম একটি ঝুড়িতে রাখার যে প্রথা চলে আসছিল তা ভেঙে দ্বিতীয় একটি যুদ্ধবিমান উৎপাদন লাইন গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। সৌভাগ্যবশত আমরা প্রযুক্তিগতভাবে যোগ্য তিনটি নির্ভরযোগ্য দরপত্রদাতাকে পেয়েছি—যার মধ্যে একটি টিএএসএল (Tata Advanced Systems Limited) এককভাবে, এবং বাকি দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে থাকা নির্ভরযোগ্য বেসরকারি সংস্থা।'
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র মারফত জানা যায়, আগ্রহ প্রকাশকারী সাতটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে কেবল তিনটি বাধ্যতামূলক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক শর্ত পূরণ করতে পেরেছিল। অন্য দিকে দুটি ছোট সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে টেন্ডার জমা দেওয়া হ্যাল এই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। মে মাসের শেষের দিকে ভারতের অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA) একটি আরএফপি (Request for Proposal) জারি করে; যা মূলত এমন একটি আনুষ্ঠানিক নথি যার মাধ্যমে বাছাই করা দরপত্রদাতাদের প্রকল্পের দর-সহ বিস্তারিত প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়।
বর্তমানে তিনটি দরপত্রদাতা এই প্রক্রিয়ায় টিকে রয়েছে: টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (TASL), একটি এলঅ্যান্ডটি-বেল-ডায়নাম্যাটিক কনসোর্টিয়াম এবং অন্যটি ভারত ফোর্জ-বিইএমএল-ডেটা প্যাটার্নস কনসোর্টিয়াম। প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য আনুমানিক ১৫,০০০ কোটি টাকার এই পর্বের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সফল দরপত্রদাতাকে অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপর্তিতে এডিএ-র সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচটি উড্ডয়নক্ষম প্রোটোটাইপ এবং একটি কাঠামোগত পরীক্ষার বিমান (structural test aircraft) তৈরি করতে হবে, এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন কোম্পানি গঠন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ মাসের মধ্যে প্রথম উড়ান এবং ৬৪ মাসের মধ্যে পাঁচটি প্রোটোটাইপই তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ৮৪ মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলোর মোট ১,৮০০টি পরীক্ষামূলক উড়ান (test sorties) সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির মূল নকশার নিয়ন্ত্রণ (design authority) এডিএ-র হাতেই থাকবে এবং প্রোটোটাইপগুলোতে প্রাথমিকভাবে জেনারেল ইলেকট্রিক (GE)-এর তৈরি এফ৪১৪ (F414) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে—যে একই ইঞ্জিন এখনও উন্মোচনের অপেক্ষায় থাকা তেজস এমকে-২ (Tejas Mk-2) যুদ্ধবিমানেও ব্যবহার করা হবে।
{{/usCountry}}বর্তমানে তিনটি দরপত্রদাতা এই প্রক্রিয়ায় টিকে রয়েছে: টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (TASL), একটি এলঅ্যান্ডটি-বেল-ডায়নাম্যাটিক কনসোর্টিয়াম এবং অন্যটি ভারত ফোর্জ-বিইএমএল-ডেটা প্যাটার্নস কনসোর্টিয়াম। প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য আনুমানিক ১৫,০০০ কোটি টাকার এই পর্বের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সফল দরপত্রদাতাকে অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপর্তিতে এডিএ-র সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচটি উড্ডয়নক্ষম প্রোটোটাইপ এবং একটি কাঠামোগত পরীক্ষার বিমান (structural test aircraft) তৈরি করতে হবে, এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন কোম্পানি গঠন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ মাসের মধ্যে প্রথম উড়ান এবং ৬৪ মাসের মধ্যে পাঁচটি প্রোটোটাইপই তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ৮৪ মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলোর মোট ১,৮০০টি পরীক্ষামূলক উড়ান (test sorties) সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির মূল নকশার নিয়ন্ত্রণ (design authority) এডিএ-র হাতেই থাকবে এবং প্রোটোটাইপগুলোতে প্রাথমিকভাবে জেনারেল ইলেকট্রিক (GE)-এর তৈরি এফ৪১৪ (F414) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে—যে একই ইঞ্জিন এখনও উন্মোচনের অপেক্ষায় থাকা তেজস এমকে-২ (Tejas Mk-2) যুদ্ধবিমানেও ব্যবহার করা হবে।
{{/usCountry}}এমসিএ (AMCA) স্টেলথ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বিভিন্ন রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চিন ইতিমধ্যেই জে-২০ (J-20) এবং জে-৩৫ (J-35) মিলিয়ে ৫০০-রও বেশি স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিজেদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জে-৩৫ বিমানটি ভবিষ্যতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতেও অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। আর কে সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে এমসিএ-র প্রথম প্রোটোটাইপ আকাশে ডানা মেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এমন কোনও স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই; যদিও বর্তমানে রাশিয়া থেকে সীমিত সংখ্যক সুখোই-৫৭ (Su-57) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।