HAL Pact with Adani and BEML for Prachanda: ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে আরও বড় পরিবর্তন আসছে। দেশীয়ভাবে তৈরি হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’-এর উৎপাদন বাড়াতে এবার বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL। হেলিকপ্টারের ফিউজলাজ বা মূল কাঠামো তৈরির জন্য আদানি ডিফেন্স সিস্টেমস অ্যান্ড টেকনোলজিস এবং BEML-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা HAL। চুক্তি অনুযায়ী, BEML মোট ৪৮টি ফিউজলাজ তৈরি করবে। অন্যদিকে আদানি ডিফেন্স তৈরি করবে ৪২টি ফিউজলাজ। এই প্রথম বেসরকারি শিল্পকে প্রচণ্ড হেলিকপ্টারের ফিউজলাজ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হল।

HAL জানিয়েছে, এই অংশীদারিত্ব ভারতের প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ এর ফলে হেলিকপ্টার তৈরির ক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। HAL-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ ভারতের অ্যারোস্পেস ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, উৎপাদনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করলে কাজের গতি বাড়বে। পাশাপাশি দেশে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে।
HAL-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্ণাটকের তুমাকুরুর নতুন হেলিকপ্টার কারখানায় প্রচণ্ড হেলিকপ্টারের উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মোট ১৫৬টি প্রচণ্ড হেলিকপ্টারের অর্ডার রয়েছে। সেই অর্ডার পূরণের কাজ চলছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে তুমাকুরু কারখানায় দুটি অতিরিক্ত উৎপাদন লাইন তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে প্রচণ্ড তৈরির মোট ক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সময়মতো সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর হাতে হেলিকপ্টার তুলে দেওয়া সহজ হবে।
প্রচণ্ড একটি দেশীয় হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার। পাহাড়ি এবং কঠিন এলাকায় অভিযানের কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনার জন্য এই হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। HAL-এর সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলির এই নতুন অংশীদারিত্বের আরও একটি বড় দিক রয়েছে। এর ফলে দেশের আরও অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প বা MSME সংস্থা প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
{{/usCountry}}প্রচণ্ড একটি দেশীয় হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার। পাহাড়ি এবং কঠিন এলাকায় অভিযানের কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনার জন্য এই হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। HAL-এর সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলির এই নতুন অংশীদারিত্বের আরও একটি বড় দিক রয়েছে। এর ফলে দেশের আরও অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প বা MSME সংস্থা প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
{{/usCountry}}দেশের বিভিন্ন অংশে যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং অ্যারোস্পেস সরবরাহকারীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে দেশে একটি বড় দেশীয় সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্র তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সাপ্লাই চেন এবং পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা। প্রচণ্ড প্রকল্পে HAL-এর সঙ্গে BEML এবং আদানি ডিফেন্সের অংশীদারিত্ব সেই দিকেই বড় পদক্ষেপ।
এর ফলে শুধু হেলিকপ্টার উৎপাদন বাড়বে না। ভারতের নিজস্ব অ্যারোস্পেস শিল্পও আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির লক্ষ্যও আরও এগিয়ে যাবে। প্রচণ্ড হেলিকপ্টারের উৎপাদনে এই নতুন মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে ভারতের আরও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্ব বাড়তে পারে। ফলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আরও গতি পাবে।