ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, সেটিকে এ বার সরকারি ভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে চিহ্নিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর জানিয়েছে, বিমানের ওমানি কোপাইলট হামাম আলহামামি ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ উড়ানে ঘটে এই ঘটনা। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি। বিমানে ছিলেন ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী এবং বিমানকর্মী। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন শিশু ছিল। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন ককপিটে আচমকা হামলা শুরু হয়। এর পরই বিমানের গতিপথ এবং উচ্চতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারীদের বক্তব্য, কোপাইলট হামাম আলহামামি ক্র্যাশ অ্যাক্স ব্যবহার করে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আহত ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে বিমানের কর্মী এবং কয়েক জন যাত্রী দ্রুত ভিতরে ঢুকে হামামকে কাবু করতে সক্ষম হন।
বিমানের ভিতরের পরিস্থিতি তখন কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। অন্য দিকে বিমান দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ডেটা অনুযায়ী, মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারায়। এক মিনিটের কাছাকাছি সময়ে উচ্চতা কমে যায় প্রায় ১৭ হাজার ফুট। এর পর উড়ান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলান অন্য দুই পাইলট। তাঁরা বিমানটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবের তাবুকে নিয়ে যান। সেখানেই নিরাপদে অবতরণ করে উড়ানটি।
এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত গুরুতর ভাবে আহত হন। বিমানের ভিতরে থাকা এক দন্ত চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন বলে আগে জানা গিয়েছিল। পরে আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে ভারতের বিভিন্ন মহলেও প্রশংসা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত গুরুতর ভাবে আহত হন। বিমানের ভিতরে থাকা এক দন্ত চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন বলে আগে জানা গিয়েছিল। পরে আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে ভারতের বিভিন্ন মহলেও প্রশংসা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এ বার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, হামাম আলহামামির কাজকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসাবেই তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি একা এই হামলা চালিয়েছিলেন কি না, কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না এবং হামলার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শারীরিক এবং ডিজিটাল প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর হামামকে ঘিরে তাঁর পুরনো কর্মজীবনও তদন্তের আওতায় এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি আগে ওমান এয়ারে কাজ করতেন। ২০২৪ সালে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাঁর কাছে উগ্রপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত কিছু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তার পর ওমানে তাঁকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি রয়্যাল এয়ার মারক এবং তার পর ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।
এত গুরুতর সন্দেহের পরেও কী ভাবে তিনি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের কোপাইলট হলেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে। বিশেষ করে তেল আভিভের মতো স্পর্শকাতর রুটে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাঁর অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কতটা তথ্য পেয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
বিমানটির ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক বিমানে এই সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনায় সেই জরুরি সরঞ্জামই অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ফ্লাইদুবাই এফজেড ১০৭৩-এর ঘটনা এখন শুধুই একটি বিমানের অভ্যন্তরীণ গোলমাল নয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আনুষ্ঠানিক ভাবে একে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হামাম একাই এই পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি এর পিছনে আরও কেউ বা কোনও সংগঠন ছিল, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।