আইপিএল ২০২৭-এর আগে বড়সড় দলবদলের জল্পনা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়তে পারেন দলের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া! তাঁকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। কিন্তু দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে দর-কষাকষি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, হার্দিকের পরিবর্তে কেকেআরের কাছ থেকে দুই ক্রিকেটারকে চাইছে মুম্বই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ ভারতীয় ব্যাটার ও উইকেটকিপার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং পেসার হর্ষিত রানা। বিশেষ করে রঘুবংশীকে ছাড়ার বিষয়ে কেকেআরের অবস্থানই এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ফলে হার্দিককে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেটার বাছাইয়ের বিষয়টি।

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্দিককে নিয়ে মুম্বই ও কলকাতার মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনও কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর খবর অনুযায়ী, কেকেআর প্রথম দিকে হার্দিককে দলে নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিল না। তাঁর চোটের সমস্যা এবং ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ ছিল নাইট শিবিরের। তবে অধিনায়ক হিসাবে হার্দিকের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে কলকাতা।
কেন রঘুবংশীকে চাইছে মুম্বই?
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দল গঠনের পরিকল্পনায় ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গায় অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে উপযুক্ত মনে করছে তারা। মাত্র ২২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর কেড়েছেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বও সামলাতে পারেন তিনি। ফলে তাঁকে দলে পেলে একাধিক সমস্যার সমাধান হতে পারে মুম্বইয়ের।
অন্য দিকে, হর্ষিত রানাকে পেতে আগ্রহী মুম্বই। ভারতীয় দলের এই পেসার নতুন বলের পাশাপাশি ডেথ ওভারেও কার্যকর হতে পারেন। ফলে হার্দিকের পরিবর্তে একজন পেসার এবং একজন তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটারকে পাওয়ার পরিকল্পনা করছে পাঁচ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা।
তবে কেকেআরের পক্ষে রঘুবংশীকে ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। দলের কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া ভবিষ্যতের দল গঠনে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
নারিন, বরুণ, রিঙ্কুকে ছাড়বে না KKR
{{/usCountry}}তবে কেকেআরের পক্ষে রঘুবংশীকে ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। দলের কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া ভবিষ্যতের দল গঠনে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
নারিন, বরুণ, রিঙ্কুকে ছাড়বে না KKR
{{/usCountry}}কেকেআর কর্তৃপক্ষ সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী এবং রিঙ্কু সিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ছাড়তে রাজি নয় বলে খবর। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের নামও সম্ভাব্য বিনিময় প্রস্তাবে উঠে এসেছিল। কিন্তু আগামী বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে আইপিএলে তাঁর পুরো মরসুম খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়েও আগ্রহ কমেছে মুম্বইয়ের।
কলকাতার আগ্রহের পিছনে আর একটি কারণ রয়েছে। অজিঙ্ক রহানের অবসরের পর দলের নেতৃত্বে নতুন মুখের প্রয়োজন। হার্দিক সেই জায়গা পূরণ করতে পারেন। ২০২২ সালে প্রথম মরসুমেই গুজরাত টাইটান্সকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। তাই অধিনায়ক হিসাবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে কেকেআর।
এ দিকে, শুধু কলকাতা নয়, চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গেও হার্দিককে নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবর সামনে এসেছে। রাজস্থানের যশস্বী জয়সওয়াল এবং রবি বিষ্ণোইকে পাওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহী মুম্বই। চেন্নাইয়ের তরুণ ব্যাটার আয়ুষ মাত্রের প্রতি আগ্রহ দেখালেও তাঁকে ছাড়তে রাজি হয়নি সিএসকে। তবে চেন্নাইয়ের সিইও কাশী বিশ্বনাথন এই ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন।
আগামী ১৫ নভেম্বর আইপিএল ২০২৭-এর জন্য ক্রিকেটার ধরে রাখার তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় বসবে নিলামের আসর। তার আগে হার্দিককে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে মুম্বই। তবে রঘুবংশীকে ছাড়ার বিষয়ে কেকেআর শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করতে পারে এই বহুচর্চিত দলবদল।