বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়কের নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকেই সরে দাঁড়ালেন হরমনপ্রীত কৌর। মঙ্গলবার নিজের সমাজমাধ্যমে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ দিনের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ আর দায়িত্বের ভার সঙ্গে নিয়েই নেতৃত্ব ছাড়ছেন তিনি। তবে ক্রিকেটকে বিদায় নয়। মাঠে খেলোয়াড় হিসাবেই আরও কিছুটা পথ চলতে চান ৩৭ বছরের হরমনপ্রীত।

হরমনপ্রীতের এই সিদ্ধান্ত এল গুয়াহাটিতে বিসিসিআইয়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর। সাম্প্রতিক কয়েক মাসের পারফরম্যান্স এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়েই ছিল সেই বৈঠক। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার নেতৃত্বে আলোচনায় ছিলেন হরমনপ্রীত, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা এবং কোচ অমল মুজুমদার। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, কিংবা নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে হরমনপ্রীতকে কোনও ভাবে রাজি করানো হয়েছিল কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বৈঠকের পরেই তাঁর সিদ্ধান্ত সামনে আসায় জল্পনা তৈরি হয়েছে।
হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের সময়টাই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের সবচেয়ে স্মরণীয় পর্বগুলির একটি। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব দিয়ে শুরু। পরে ২০২২ সালে মিতালি রাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর এক দিনের দল এবং টেস্ট দলের পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বও তাঁর হাতে আসে। এত বছরের যাত্রার সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত অবশ্য আসে ২০২৫ সালে। তাঁর নেতৃত্বেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম বার মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
সেখানেই শেষ নয়। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসেও হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে সোনা জেতে ভারত। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে মেয়েদের ক্রিকেটে এশিয়ান গেমসে নিজেদের দ্বিতীয় সোনার পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। এর আগে একই বছরে এশিয়া কাপও জেতে ভারত, যেখানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টম বার চ্যাম্পিয়ন হয় দল। অর্থাৎ নেতৃত্ব ছাড়ার সময় তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক বড় সাফল্য।
{{/usCountry}}সেখানেই শেষ নয়। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসেও হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে সোনা জেতে ভারত। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে মেয়েদের ক্রিকেটে এশিয়ান গেমসে নিজেদের দ্বিতীয় সোনার পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। এর আগে একই বছরে এশিয়া কাপও জেতে ভারত, যেখানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টম বার চ্যাম্পিয়ন হয় দল। অর্থাৎ নেতৃত্ব ছাড়ার সময় তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক বড় সাফল্য।
{{/usCountry}}তবু গত কয়েক মাসে হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন কম ওঠেনি। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অভিযানও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর হরমনপ্রীত নিজেই বলেছিলেন, দলকে নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি এবং অনেক কিছু নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বে বদলের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। সেই জায়গায় সবচেয়ে স্বাভাবিক নাম স্মৃতি মন্ধানার। দীর্ঘ সময়ের সহ-অধিনায়ক স্মৃতিই হরমনপ্রীতের পর নতুন দায়িত্ব নিতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনেও স্মৃতিকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য হরমনপ্রীতের বিদায় মানে ভারতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি নয়। নিজের বার্তাতেই তিনি জানিয়েছেন, অধিনায়কত্ব শেষ হলেও দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা অটুট। নেতৃত্বের চাপ সরিয়ে এবার হয়তো ব্যাটার হরমনপ্রীতের উপরই আরও বেশি নজর থাকবে।
একটি বিশ্বকাপ জয়, এশিয়ান গেমসে সোনা, এশিয়া কাপের সাফল্য—এমন এক পর্বের পর নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে তাই একই সঙ্গে একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের শুরু। এখন দেখার, স্মৃতি মন্ধানার নেতৃত্বে দল সেই সাফল্যের ধারাকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।