ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে বিশাল আকারের একটি ‘রেন বেল্ট’, যা উত্তর ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমির এটি অন্যতম শক্তিশালী ও সক্রিয় পর্যায়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮৮ থেকে ৯২ শতাংশ এলাকা ঘন মেঘে ঢাকা পড়েছে। এর জেরে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর-সহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় মহারাষ্ট্র, দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তার কিছুদিন পরই হঠাৎ করেই দেশের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে মেঘ সরে যায় এবং বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে আইএমডি। আবহাওয়াবিদদের মতে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মৌসুমি অক্ষরেখা বা মনসুন ট্রফ হিমালয়ের পাদদেশের দিকে সরে গিয়েছিল। এর ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতের সমতল এলাকায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি নষ্ট হয় এবং বহু জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই সময় মধ্য ভারতের উপরে বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছিল। এর ফলে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। সেই কারণেই দেশের বড় অংশে কয়েকদিনের জন্য বর্ষা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
তবে গত চার দিনে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই নিম্নচাপ মৌসুমি অক্ষরেখাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থানে, অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে টেনে এনেছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই নিম্নচাপ কার্যত একটি ‘ভ্যাকুয়াম’-এর মতো কাজ করেছে। এর ফলে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ মৌসুমি বাতাস এবং মেঘ দ্রুত ভারতের দিকে ধাবিত হয়েছে। এর ফলেই বিশাল আকারের রেন বেল্ট তৈরি হয়েছে, যা উপগ্রহচিত্রে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
{{/usCountry}}তবে গত চার দিনে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই নিম্নচাপ মৌসুমি অক্ষরেখাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থানে, অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে টেনে এনেছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই নিম্নচাপ কার্যত একটি ‘ভ্যাকুয়াম’-এর মতো কাজ করেছে। এর ফলে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ মৌসুমি বাতাস এবং মেঘ দ্রুত ভারতের দিকে ধাবিত হয়েছে। এর ফলেই বিশাল আকারের রেন বেল্ট তৈরি হয়েছে, যা উপগ্রহচিত্রে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
{{/usCountry}}আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রবল থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইএমডি।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ‘রেন বেল্ট’ বলতে বায়ুমণ্ডলের বিশেষ পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া মেঘ ও ভারী বৃষ্টির একটি দীর্ঘ করিডরকে বোঝায়, যা শত শত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর সংযোগ অঞ্চল বা মনসুন কনভার্জেন্স জোনের প্রভাবে এই ধরনের রেন বেল্ট তৈরি হয়। এর ফলে একই সময়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্রিয় মৌসুমি পরিস্থিতির ফলে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।