...
...
Next Story

ইরানকে তেল পাচারে সাহায্য! ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে আমেরিকার বড় পদক্ষেপ, স্বামী-স্ত্রী-সহ একাধিক সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে সাহায্য করার অভিযোগে ভারতের এক দম্পতি এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তাই নয়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন আরও দুই ভারতীয় নাগরিক।

Published on: Nov 5, 2026, 08:58:41 IST
Advertisement

ইরানের পাশে দাঁড়ানোর মাশুল গুনতে হল ভারতীয় দম্পতিকে! ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে সাহায্য করার অভিযোগে ভারতের এক দম্পতি এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তাই নয়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন আরও দুই ভারতীয় নাগরিক। আমেরিকার অভিযোগ, জাল নথি, ভুয়ো জাহাজের জাতীয়তা এবং প্রতারণামূলক সামুদ্রিক শংসাপত্র ব্যবহার করে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছিলেন তাঁরা। বুধবার মার্কিন অর্থ দপ্তর এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানকে যারা সাহায্য করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, ‘হয় আমাদের সঙ্গে থাকুন, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে’।

ইরানকে তেল পাচারে সাহায্য! ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে আমেরিকার বড় পদক্ষেপ, স্বামী-স্ত্রী-সহ একাধিক সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা
ইরানকে তেল পাচারে সাহায্য! ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে আমেরিকার বড় পদক্ষেপ, স্বামী-স্ত্রী-সহ একাধিক সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন অর্থ দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা সুনীল কুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শাহিদ। পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় নাগরিক অশ্বিনী কুমার ধীমান এবং ইশবিন্দর সিংয়ের নামও রয়েছে। শর্মা ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপনে তেল পরিবহণকারী জাহাজগুলিকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে সাহায্য করে আসছিল।

কিন্তু কীভাবে চলত এই গোটা কারবার? ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি বলে নিজেদের পরিচয় দিতেন। গায়ানা, এসওয়াতিনি, লাওস, আরুবা, মালি, মোজাম্বিক-সহ একাধিক দেশের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, পতাকা ব্যবহারের অনুমতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবা চালানো হত। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সরকার তাঁদের এমন কোনও অনুমতি দেয়নি বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।

এই ঘটনার জেরে শুধু দম্পতি বা তাঁদের ব্যবসায়িক সংস্থাই নয়, তুরস্কের Fugo Ground Services নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন অভিযোগ, সংস্থাটি ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা একাধিক বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা দিত। ফলে স্থল, জল এবং আকাশ—তিন পথেই ইরানের উপর চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পদক্ষেপ এসেছে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার ঠিক পরেই। ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোটে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প নিজেও। কিন্তু নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান বন্ধ করার কোনও ইঙ্গিত নেই তাঁর প্রশাসনের। বরং ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয় বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন।

সব মিলিয়ে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্ক রাখা সংস্থাগুলির উপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে আমেরিকা। তবে ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি মার্কিন প্রশাসনের তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার ভিত্তিতে করা দাবি। নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। কিন্তু এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জাহাজ পরিবহণ এবং ভারতের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks