পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদীর প্রত্যর্পণ মামলা পুনরায় চালু করতে অস্বীকার করেছে লন্ডনের হাইকোর্ট। এই আবাহে নীরব মোদীর প্রত্যর্পণের পথ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আপাতত ব্রিটিশ হেফাজতে আছেন নীরব মোদী। ভারতে নিজের প্রত্যর্পণ ঠেকাতে ব্রিটেনে আর কোনও আইনি পথ তাঁর জন্য খোলা নেই। এর আগে ভারতের তরফ থেকে একাধিকবার ব্রিটিশ আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে নীরব মোদীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা পাঁচটি সংস্থার কোনও আধিকারিক তাঁকে জেরা করবে না। এর আগে গতবছর সঞ্জয় ভাণ্ডারি নামক এক প্রতিরক্ষা পরামর্শদাতার প্রত্যর্পণ ঠেকিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ আদালত। সঞ্জয়কে ভারতে নিয়ে গেলে তাঁর ওপর অত্যাচার চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই যুক্তি দেখিয়েই নীরব দাবি করেছেন, ভারতে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর ওপরেও অত্যাচার করা হবে। এই মর্মে তিনি তাঁর প্রত্যর্পণের মামলা পুনরায় চালু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হল লন্ডনের উচ্চ আদালতে।

ব্রিটিশ আদালত বলেছে, ভারত সরকার যদি তাদের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে থাকত, তাহলে নীরবের আবেদনটি পুনরায় শোনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। লর্ড জাস্টিস জেরেমি স্টুয়ার্ট-স্মিথ এবং বিচারপতি রবার্ট জেয়ের বেঞ্চ বলেছে, ভারত সরকার, মহারাষ্ট্র রাজ্য এবং পাঁচটি সংস্থাকে নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে আশ্বাসগুলি দিয়েছে, তা 'সুনির্দিষ্ট এবং অস্পষ্ট নয়'। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে, ভারত নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তবে তারা সন্তুষ্ট যে ভারতীয় আইনে নির্যাতনের অনুমতি নেই। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে ভারত জানিয়েছে যে নীরব মোদীকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড কারাগারে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে নীরব মোদীর প্রত্যর্পণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই। এই আবহে নীরব মোদীর আবেদনের বিরুদ্ধে লড়তে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসকে সহায়তা করেছে সিবিআই। এর জন্য সিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তারা লন্ডনে গিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি বুধবার, লন্ডনের একটি আদালতে নীরব মোদী উপস্থিত হন অপর এক মামলার শুনানিতে। সেই মামলাটি করেছে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। ঋণের অর্থ শোধ করার জন্য় বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির একটি আবেদন করেছিল ব্যাঙ্কটি।
উল্লেখ্য, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ৬,৪৯৮ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত নীরব মোদী। মোট ১৩,৫৭৮ কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছিল এই মামলায়। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ নীরবের কাকা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে। এই আবহে ভারতের অনুরোধের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড নীরব মোদীকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর থেকে তিনি ব্রিটেনের কারাগারেই রয়েছেন। এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীনে ২৫৯৮ কোটি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাংকগুলিতে ৯৮১ কোটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ৬,৪৯৮ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত নীরব মোদী। মোট ১৩,৫৭৮ কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছিল এই মামলায়। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ নীরবের কাকা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে। এই আবহে ভারতের অনুরোধের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড নীরব মোদীকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর থেকে তিনি ব্রিটেনের কারাগারেই রয়েছেন। এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীনে ২৫৯৮ কোটি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাংকগুলিতে ৯৮১ কোটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}