...
...
Next Story

বাংলাদেশে জলে ভাসতে থাকা ড্রামের ভিতর মিলল হিন্দু ব্যক্তির দেহ! 'সব হিন্দুদের কি মেরে দেবে?' গর্জে উঠলেন তসলিমা

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে দেখা যায় একটি ড্রাম। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। তার ভিতরেই মিলেছিল এক ব্যক্তির মরদেহ। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

Updated on: Sep 25, 2026, 13:42:08 IST
Advertisement

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জলে ভাসতে থাকা ড্রামের ভিতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাঁর নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। বয়স ৫০ বছর। ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা নিরঞ্জন ময়মনসিংহ শহরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। স্থানীয় ভাবে তিনি গয়নার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশে জলে ভাসতে থাকা ড্রামের ভিতর মিলল হিন্দু ব্যক্তির দেহ! সরব তসলিমা
বাংলাদেশে জলে ভাসতে থাকা ড্রামের ভিতর মিলল হিন্দু ব্যক্তির দেহ! সরব তসলিমা

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে দেখা যায় একটি ড্রাম। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। তার ভিতরেই মিলেছিল এক ব্যক্তির মরদেহ। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

পরে মৃতের পোশাকের পকেট থেকে পাওয়া একটি টোকেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগোয়। ওই টোকেনটি ময়মনসিংহ হিন্দু কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের বলে জানা যায়। সেই সূত্র ধরে যোগাযোগের পরে মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিরঞ্জনের স্ত্রী সুমিতা রানি সূত্রধর এবং ছেলে জয় সূত্রধর মর্গে গিয়ে দেহটি শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিরঞ্জনের মাথা এবং বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, তাঁকে অন্য কোথাও খুন করার পরে দেহ ড্রামের ভিতর ঢুকিয়ে জলে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও জানা যায়নি। খুনের কারণও স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে তদন্ত চলছে।

এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিরঞ্জন হিন্দু এবং গয়নার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তবে তাঁর এই মন্তব্য তাঁর নিজস্ব বক্তব্য। নিরঞ্জনকে ধর্মীয় কারণে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও পুলিশের হাতে নেই।

ময়মনসিংহের ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ভাঙচুর এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ তুলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একাধিক হিংসার ঘটনা নথিবদ্ধ করার দাবি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তাই ময়মনসিংহের এই ঘটনায় এখন মূল নজর পুলিশের তদন্তে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ, লুট বা অন্য কোনও কারণের জেরে এই খুন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরঞ্জনের নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে দেহ উদ্ধারের আগের সময়টুকু তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। কারা তাঁর সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ করেছিলেন এবং কোথায় তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল, সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা যায় কি না, এখন সেটাই পুলিশের সামনে বড় প্রশ্ন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks