আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় অভিবাসন, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়গুলি সামনে আসছে। এর মধ্যেই টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি রক্ষণশীল ইউটিউবার ওই মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার কথা বলার পর হিন্দু সংগঠন এবং আমেরিকান-হিন্দুদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি এখন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টেক্সাসের সুগার ল্যান্ডে শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিয়ন’ নামে পরিচিত এই বিশাল হনুমান মূর্তি। ২০২৪ সালের আগস্টে মূর্তিটির উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মূর্তিটি স্থাপনের পর থেকেই কয়েকটি রক্ষণশীল খ্রিস্টান গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে আসছে। ২০২৪ সালে একটি স্থানীয় চার্চের সদস্যরা মূর্তিটির কাছে বিক্ষোভও করেছিলেন।
এই পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে রক্ষণশীল ইউটিউবার এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা MAGA-র কর্মী জেসি হিউজের একটি পোস্টকে ঘিরে। তিনি মূর্তিটির ছবি X-এ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এটি সরিয়ে দেওয়ার হুমকিসূচক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই হিন্দু সংগঠন এবং কয়েকজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক তীব্র আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদকারীরা বলেন, কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল বা ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ধ্বংস করার কথা বলা আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে যায় না।
মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য রুচির বক্সিও হিউজের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি নিজেকে আমেরিকান-হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, কোনও ধর্মের প্রতি বিরূপতার কারণে সেই সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল ধ্বংস করার কথা বলা গুরুতর বিষয়। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছে Coalition of Hindus of North America বা CoHNA। টেক্সাসের এক প্রাক্তন সেনাসদস্য ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার কার্ল হুইলসও এই প্রতিক্রিয়ায় পাশে দাঁড়িয়েছেন।
{{/usCountry}}মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য রুচির বক্সিও হিউজের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি নিজেকে আমেরিকান-হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, কোনও ধর্মের প্রতি বিরূপতার কারণে সেই সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল ধ্বংস করার কথা বলা গুরুতর বিষয়। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছে Coalition of Hindus of North America বা CoHNA। টেক্সাসের এক প্রাক্তন সেনাসদস্য ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার কার্ল হুইলসও এই প্রতিক্রিয়ায় পাশে দাঁড়িয়েছেন।
{{/usCountry}}এই ঘটনাকে আলাদা করে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ। টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিবাসন ও পরিচয়ের প্রশ্ন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একটি ফুটবল ম্যাচের ছবি পোস্ট করে সেখানে থাকা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ছাত্রদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, বিদেশিরা আমেরিকানদের জায়গা দখল করছে। তাঁর মন্তব্যের পর বহু রিপাবলিকান নেতাও সমালোচনা করেন।
ফ্রেঞ্চের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কর্নিনও। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র চেহারা বা বর্ণ দেখে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যুক্তিসঙ্গত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের স্নাতক স্তরের ছাত্রদের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর হার মাত্র ৪.৩ শতাংশ এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থীই টেক্সাসের বাসিন্দা।
ফলে হনুমান মূর্তি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকছে না। টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিবাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের সামাজিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য ও বিতর্ক কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, আমেরিকার রাজনৈতিক আলোচনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশ্ন আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।