...
...
Next Story

লরির পিছনে কেন লেখা থাকে ‘Horn OK Please’? কখনও ভেবে দেখেছেন OK শব্দটা এল কোথা থেকে? রয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

প্রথম নজরে বাক্যটিকে খুব সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে থাকা 'OK' শব্দের উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ ও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রধানত ৩টি বহুপ্রচলিত এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় তথ্য প্রচলিত রয়েছে।

Published on: Aug 3, 2026, 13:06:21 IST
Advertisement

ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায়, ভারতের জাতীয় সড়ক কিংবা রাজ্য সড়কের ওপর দিয়ে ছুটে চলা প্রায় প্রতিটি লরি, ট্রাক বা ভারী পণ্যবাহী গাড়ির পেছনে একটি বাক্য স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে— ‘Horn OK Please’। দূরপাল্লার ড্রাইভারদের পাশাপাশি প্রতিদিন যাতায়াত করা কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কাছে এই তিনটি শব্দ অত্যন্ত সুপরিচিত। পেছন থেকে আসা গাড়িগুলোকে হর্ন বাজিয়ে ওভারটেক করার সংকেত দিতেই প্রধানত এটি লেখা হয়।

লরির পিছনে কেন লেখা থাকে ‘Horn OK Please’? কখনও ভেবে দেখেছেন OK শব্দটা এল কীভাবে
লরির পিছনে কেন লেখা থাকে ‘Horn OK Please’? কখনও ভেবে দেখেছেন OK শব্দটা এল কীভাবে

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সাধারণ "Horn Please" লেখার মাঝে এই মাঝের 'OK' শব্দটির রহস্য কী? দুটি স্বাভাবিক শব্দের মাঝে এই 'OK' কথাটি কীভাবে যুক্ত হলো এবং এর পেছনের অবিশ্বাস্য ইতিহাসই বা কী? কেবল পথনির্দেশনা নয়, এই ‘OK’ শব্দটিকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোপন কৌশল, টাটা কোম্পানির ব্র্যান্ডিং এবং জ্বালানি সঙ্কটের মতো একাধিক আকর্ষণীয় লোকগাথা ও ঐতিহাসিক সত্য।

প্রথম নজরে বাক্যটিকে খুব সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে থাকা 'OK' শব্দের উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ ও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রধানত ৩টি বহুপ্রচলিত এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় তথ্য প্রচলিত রয়েছে:

১. কেরোসিন ব্যবহারের দিনগুলি (On Kerosene): বিশ্বযুদ্ধের সময়ের বিপজ্জনক ইতিহাস

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের সাথে যুক্ত। সেই সময়ে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি বা ডিজেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছিল। ভারী ট্রাক বা লরি চালাতে তখন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের সাথে মারাত্মক দাহ্য কেরোসিন (Kerosene) মেশানো হতো।

দ্বিতীয় জনপ্রিয় তত্ত্বটির যোগসূত্র রয়েছে ভারতের বিখ্যাত শিল্পগোষ্ঠী টাটা (TATA)-র সাথে। ভারতের লরি ও ট্রাক তৈরির বাজারের একটি সিংহভাগ বরাবরই টাটা মোটরসের দখলে।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে টাটা গ্রুপ 'OK' নামে একটি বিশেষ ডিটারজেন্ট সাবান বাজারে এনেছিল। সেই সাবানের লোগোতে ছিল একটি পদ্মফুল এবং বড় বড় হরফে লেখা 'OK'। নিজেদের এই নতুন সাবানের প্রচার ও ব্র্যান্ডিং করার জন্য তারা নিজেদের তৈরি প্রতিটি লরির পেছনে ‘OK’ শব্দটি এঁকে দিত। উদ্দেশ্য ছিল, রাস্তায় ছুটে চলা হাজার হাজার লরি যেন ফ্রিতে টাটা সাবানের চলন্ত বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে সাবানটি বাজার থেকে হারিয়ে গেলেও লরির পেছনের সেই 'OK' শব্দটি ঐতিহ্য হিসেবে রয়ে যায়।

৩. ওভারটেকিংয়ের নিরাপত্তা নির্দেশিকা (Overtake Killed / OK to Overtake)

ব্রিটিশ আমল ও পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সড়কগুলোতে পণ্যবাহী লরিগুলোর আকারের তুলনায় রাস্তা ছিল অত্যন্ত সরু। এ ছাড়া সেই সময় লরিগুলোতে কোনো সাইড মিরর বা লুকিং গ্লাস থাকত না।

গাড়ির পেছনের অংশটি তিন ভাগে ভাগ করে লেখা হতো— বা দিকে 'Horn', মাঝখানে একটি আলোর সংকেতসহ 'OK' এবং ডানদিকে 'Please'। পেছনের গাড়ি যদি ওভারটেক করতে চেয়ে হর্ন বাজাত, তখন লরি ড্রাইভার যদি সামনে রাস্তা ফাঁকা দেখতেন, তবে তিনি মাঝের লাইটটি জ্বালিয়ে ওভারটেকের অনুমতি দিতেন। সেই লাইটের নিচে 'OK' লেখা থাকত, যার অর্থ— "It is OK to overtake" (ওভারটেক করা নিরাপদ)। আর যদি পেছনের গাড়ি কোনো সংকেত ছাড়া বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ত, তখন সেই নির্দেশকে ‘Overtake Killed’ বলা হতো।

আইনি নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান পরিস্থিতি

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই লেখার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্র সরকার পথ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অহেতুক শব্দদূষণ বা হর্ন বাজানোর প্রবণতা কমাতে লরির পেছনে ‘Horn OK Please’ লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কারণ অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই শব্দগুচ্ছটি চালকদের অহেতুক হর্ন বাজাতে উৎসাহিত করে, যা হাইওয়েতে তীব্র শব্দদূষণ ঘটায়।

আজকের আধুনিক যুগে জিপিএস প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক সাইড মিরর চলে এলেও, ভারতের লরি ও ট্রাক সংস্কৃতির সাথে 'Horn OK Please' এক নস্টালজিক আবেগের মতো জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস ও সংস্কৃতির এই অদ্ভুত মেলবন্ধনই ভারতীয় সড়কগুলোকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য রূপ দান করেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe