How Dhaka got its name: বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক শহর ঢাকা। বর্তমানে এটি স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী এবং বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মেগাসিটি। মোঘল আমল থেকে শুরু করে আধুনিক কাল—দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই শহর। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই শহরের নাম কেন ‘ঢাকা’ হলো? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোন ইতিহাস?

ঢাকার নামকরণ নিয়ে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও ভাষাতত্ত্ববিদদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। কোনো একক ঐতিহাসিক তথ্য নয়, বরং বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চকর লোকগাথা এবং মোঘল ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এই নামকরণকে ব্যাখ্যা করা হয়।
১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মোঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতী যখন বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে এই শহরে স্থানান্তর করেন, তখন থেকেই মূলত আধুনিক প্রশাসনিক শহর হিসেবে ঢাকার পথ চলা শুরু। তবে ‘ঢাকা’ নামটি মোঘল আমলের আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। এই নামকরণের পেছনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ৪টি মতবাদ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সুবাদার ইসলাম খানের ঢাক বাজানোর ইতিহাস:
ঢাকার নামকরণ নিয়ে প্রচলিত গল্পটি জড়িয়ে রয়েছে মোঘল সুবাদার ইসলাম খানের সাথে। ১৬১০ সালে তিনি যখন বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে এই শহরে প্রবেশ করেন, তখন শহরের সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাঁর প্রধান ঢাকিদের নির্দেশ দেন যত জোরে সম্ভব ঢাক বাজাতে। একই সাথে তিনি তিন দিকে ঘোড়সওয়ার সেনা পাঠান এবং নির্দেশ দেন যে, যতদূর পর্যন্ত এই ঢাকের আওয়াজ শোনা যাবে, ততদূর পর্যন্তই হবে বাংলার নতুন রাজধানী বা কেল্লার সীমানা। ঢাকিরা মন প্রাণ উজাড় করে ঢাক বাজাতে শুরু করেন এবং সেই ‘ঢাক’ শব্দ থেকেই নাকি এই শহরের নাম হয় ‘ঢাকা’।
২. বল্লাল সেন এবং ঢাকেশ্বরী দেবীর মন্দির:
অনেকে মনে করেন, মোঘল আমলেরও বহু আগে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে এই নামের উৎপত্তি। জনশ্রুতি আছে, রাজা বল্লাল সেন একবার এই অঞ্চলের জঙ্গলে ঘুরতে এসে দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ বা মূর্তি খুঁজে পান। দেবীর মূর্তিটি বনের মধ্যে ঢাকা বা আবৃত অবস্থায় ছিল। রাজা তখন বুড়িগঙ্গার অদূরে দেবীর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিগ্রহটি ঢাকা অবস্থায় পেয়েছিলেন বলে মন্দিরের নাম দেন ‘ঢাকেশ্বরী মন্দির’ (যার অর্থ ঢাকার ঈশ্বরী)। এই ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে পুরো অঞ্চলের নাম ‘ঢাকা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
৩. ঢাক গাছের প্রাচুর্য:
{{/usCountry}}অনেকে মনে করেন, মোঘল আমলেরও বহু আগে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে এই নামের উৎপত্তি। জনশ্রুতি আছে, রাজা বল্লাল সেন একবার এই অঞ্চলের জঙ্গলে ঘুরতে এসে দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ বা মূর্তি খুঁজে পান। দেবীর মূর্তিটি বনের মধ্যে ঢাকা বা আবৃত অবস্থায় ছিল। রাজা তখন বুড়িগঙ্গার অদূরে দেবীর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিগ্রহটি ঢাকা অবস্থায় পেয়েছিলেন বলে মন্দিরের নাম দেন ‘ঢাকেশ্বরী মন্দির’ (যার অর্থ ঢাকার ঈশ্বরী)। এই ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে পুরো অঞ্চলের নাম ‘ঢাকা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
৩. ঢাক গাছের প্রাচুর্য:
{{/usCountry}}ভাষাতত্ত্ববিদ এবং অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণে এই নামকরণ হতে পারে। প্রাচীনকালে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ‘ঢাক’ গাছ (বৈজ্ঞানিক নাম: Butea monosperma, যা আমাদের দেশে মূলত পলাশ গাছ নামে পরিচিত) জন্মাত। বসন্তকালে এই লাল টকটকে ঢাক বা পলাশ ফুলে পুরো এলাকা ছেয়ে যেত। এই বিপুল পরিমাণ ঢাক গাছের আধিক্যের কারণেই এলাকাটির নাম লোকমুখে ‘ঢাকা’ হয়ে যায়।
৪. ‘ঢাক্কা’ নামক প্রাচীন ভাষা ও বন্দর:
ইতিহাসের অন্য একটি সূত্র বলছে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে একটি শুঁটকি মাছ বা বাণিজ্যের বড় চৌকি ছিল, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘ঢাক্কা’ বলা হতো। রাজতরঙ্গিনী নামক প্রাচীন গ্রন্থেও ‘ঢাক্কা’ শব্দটির উল্লেখ মেলে, যার অর্থ ওয়াচ-টাওয়ার বা পর্যবেক্ষণ চৌকি। মোঘলরা আসার আগে এটি একটি সীমান্ত চৌকি হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা পরবর্তীতে ‘ঢাকা’ নামে রূপ নেয়।
ঢাক বাজানোর গল্প হোক, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মাহাত্ম্য হোক কিংবা লাল পলাশ বা ঢাক গাছের সৌন্দর্য—কারণ যা-ই হোক না কেন, ‘ঢাকা’ নামটি আজ বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী। ৪০০ বছরের পুরনো এই শহরের নামের পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি ইতিহাসই ঢাকার ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে আরও বেশি রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তোলে।