ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকরের অধ্যায়ের শেষ। বিসিসিআইয়ের পুরুষদের সিনিয়র জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে ৪ অক্টোবর। তার তিন দিনের মাথায় সমাজমাধ্যমে আগরকরকে নিয়ে গৌতম গম্ভীরের একটি আবেগঘন পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু ক্রিকেটমহলে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিখলেন, ‘‘ইতিহাস আপনার প্রতি আরও সদয় হবে।’’ সাধারণ বিদায়বার্তা নয়, গম্ভীরের এই একটি বাক্যই যেন ইঙ্গিত দিল—আগরকরের সময়টা যতটা সমালোচিত হয়েছে, ভবিষ্যতে হয়তো ততটাই অন্য চোখে দেখা হবে।

গম্ভীর আগরকরকে ‘অজিত ভাই’ বলে সম্বোধন করে লিখেছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা ছিল সম্মানের। তিনটি আইসিসি ট্রফিকে তিনি আগরকরের দৃঢ় বিশ্বাসের প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি লিখেছেন, দলের স্বার্থ এবং দলকে এগিয়ে রাখাই ছিল আগরকরের মূল নীতি। শেষে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গম্ভীর।
কিন্তু কেন ‘ইতিহাস আরও সদয় হবে’?
এই প্রশ্নটাই এখন বড়। কারণ, আগরকরের তিন বছরের বেশি সময়ের নির্বাচক-জীবন একদিকে যেমন সাফল্যে ভরা, অন্য দিকে তেমনই ছিল বিতর্কে মোড়া। জুলাই ২০২৩-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। একই সময়ে ২০২৩ এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল ভারত। অর্থাৎ ফলাফলের খাতায় আগরকরের সময় নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল।
তবু তাঁকে ঘিরে সমালোচনা কম ছিল না। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির টেস্ট অবসর ও তার পরের দল নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছিল। রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এক পর্যায়ে তাঁকে এক দিনের দল থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা শুরু হয় বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। একই সময়ে ইয়শস্বী জয়সওয়ালকে ওপেনিংয়ে আরও সুযোগ দেওয়ার ভাবনাও সামনে আসে। পরে বিসিসিআই সচিব দিবজিৎ সাইকিয়া রোহিতকে ২০২৭ এক দিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ান ডে-তে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই ঘটনাকেই আগরকর এবং বোর্ডের মধ্যে দূরত্ব তৈরির একটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সেখানেই গম্ভীরের মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সরাসরি কোনও বিতর্কের কথা বলেননি। বরং ফলাফলকে সামনে রেখে যেন বললেন, আজকের সমালোচনায় যাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের মূল্যায়ন হয়তো বদলাবে। ক্রিকেটে নির্বাচকদের কাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানেই—দল জিতলে কৃতিত্বের অনেকটাই চলে যায় ক্রিকেটারদের কাছে, আর ভুল নির্বাচন হলেই প্রথম কাঠগড়ায় বসেন নির্বাচকরা। আগরকরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গম্ভীর তাই যেন তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধার হয়ে সেই অদৃশ্য সাফাই গাইলেন।
{{/usCountry}}সেখানেই গম্ভীরের মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সরাসরি কোনও বিতর্কের কথা বলেননি। বরং ফলাফলকে সামনে রেখে যেন বললেন, আজকের সমালোচনায় যাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের মূল্যায়ন হয়তো বদলাবে। ক্রিকেটে নির্বাচকদের কাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানেই—দল জিতলে কৃতিত্বের অনেকটাই চলে যায় ক্রিকেটারদের কাছে, আর ভুল নির্বাচন হলেই প্রথম কাঠগড়ায় বসেন নির্বাচকরা। আগরকরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গম্ভীর তাই যেন তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধার হয়ে সেই অদৃশ্য সাফাই গাইলেন।
{{/usCountry}}আগরকরের বিদায়ের পর আপাতত নির্বাচক কমিটির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রজ্ঞান ওঝা। বিসিসিআইও নতুন এক সদস্যের জন্য আবেদন চেয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল থেকে নতুন নির্বাচক নিয়োগ হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর। নতুন নির্বাচকের কাজ শুধু দল বাছাই নয়—দীর্ঘমেয়াদি দল পরিকল্পনা, প্রতিভা খোঁজা, ঘরোয়া ক্রিকেট নজরে রাখা এবং কৌশলগত আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
এই বদলেই শেষ নয় আগরকর-গম্ভীর অধ্যায়ের গল্প। বরং প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, তিনটি আইসিসি ট্রফি এনে দেওয়া নির্বাচককে কেন বিদায়ের সময় এমন বাক্য শুনতে হল—‘ইতিহাস আরও সদয় হবে’? গম্ভীর কোনও অভিযোগ করেননি, কারও নামও টানেননি। কিন্তু তাঁর বার্তায় যেন স্পষ্ট—বর্তমানের সমালোচনার চেয়ে আগরকরের রেখে যাওয়া সাফল্যের হিসাব অনেক বড়। সময়ই শেষ পর্যন্ত সেই বিচার করবে।