Guwahati Shocker: কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল। নতুন সংসার শুরু করেছিলেন এক দম্পতি। তার মধ্যেই ঘটে গেল হাড়হিম করা এক ঘটনা (Guwahati murder case)। অসমের গুয়াহাটির একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৫ বছর বয়সি এক নববধূর পচাগলা ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গুয়াহাটির ওই ফ্ল্যাটে ওই দম্পতি কয়েক মাস ধরেই ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবারের পর থেকে তাঁদের আর কাউকে বাইরে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। এমনকী দু'জনের ফোনও বন্ধ ছিল। এরপর রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীরাই থানায় জানান, ওই বাড়ি থেকে পচা, দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যার জেরে আশেপাশের বাড়ির কেউই টিকতে পারছিলেন না। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় আর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অবশেষে সেই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সদ্য বিবাহিত তরুণীর ক্ষতবিক্ষত পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দেখা যায়, তাঁর আঙুলগুলো অর্ধেক কাটা এবং ধড় থেকে মাথা সম্পূর্ণ আলাদা! কিন্তু মুণ্ডুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর পুরো ঘর জুড়ে তল্লাশি চালানোর সময় ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের, একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকিয়ে রাখা রয়েছে তরুণীর কাটা মাথা। মৃত নববধূর নাম, রিয়া তালুকদার। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার শেষবার নবদম্পতিকে দেখতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। সেদিন রাতেই সম্ভবত খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল। শুক্রবার রাত থেকেই অভিযুক্ত যুবক নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ দ্রুত খণ্ডবিখণ্ড দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে শুরু হয় জোর তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে থানায় আত্মসমর্পণ করেন ওই ঘাতক স্বামী। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পিছনের আসল উদ্দেশ্য জানতে এবং অভিযুক্তের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। কী কারণে এত নৃশংসভাবে স্ত্রীকে খুন করলেন? দম্পতির মধ্যে কোনও পারিবারিক বিবাদ ছিল, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও গভীর কারণ? সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। এর পিছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।