...
...
Next Story

তিস্তার উপনদীতে নোংরা জল ফেললেই বন্ধ হোটেল! লাচেন-লাচুং নিয়ে কড়া নির্দেশ সিকিম হাই কোর্টের

লাচেন ও লাচুং, দুই পাহাড়ি জনপদই পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতি বছর বহু মানুষ সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু পর্যটনের এই বিপুল চাপ সামলানোর মতো নিকাশি পরিকাঠামো সেখানে যথেষ্ট নয় বলে উঠে এসেছে আদালতে জমা পড়া পরিদর্শন রিপোর্টে।

Published on: Oct 18, 2026, 18:47:56 IST
Advertisement

পর্যটকদের ভিড়ে উপচে পড়ে পাহাড়ি গ্রাম। বাড়ছে হোটেল, বাড়ছে মানুষের বাস। কিন্তু সেই সঙ্গে বাড়ছে দূষণও। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় হোটেল ও বাড়ির অপরিশোধিত নোংরা জল সরাসরি গিয়ে মিশছে তিস্তার উপনদীতে। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করল সিকিম হাই কোর্ট। উত্তর সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাচেন ও লাচুংয়ে অপরিশোধিত নিকাশির জল নদীতে ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রুখতে আদালতের এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তিস্তার উপনদীতে দূষিত জল

তিস্তার উপনদীতে নোংরা জল ফেললেই বন্ধ হোটেল! লাচেন-লাচুং নিয়ে কড়া নির্দেশ সিকিম হাই কোর্টের
তিস্তার উপনদীতে নোংরা জল ফেললেই বন্ধ হোটেল! লাচেন-লাচুং নিয়ে কড়া নির্দেশ সিকিম হাই কোর্টের

লাচেন ও লাচুং, দুই পাহাড়ি জনপদই পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতি বছর বহু মানুষ সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু পর্যটনের এই বিপুল চাপ সামলানোর মতো নিকাশি পরিকাঠামো সেখানে যথেষ্ট নয় বলে উঠে এসেছে আদালতে জমা পড়া পরিদর্শন রিপোর্টে।

সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্যটনের ভরা মরসুমে বহু হোটেলের সেপটিক ট্যাঙ্ক উপচে পড়ে। তার ফলে অপরিশোধিত নিকাশির জল পাইপ দিয়ে নালা, ছোট জলধারা এবং পাহাড়ি ঝোরায় গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে দূষিত জল মিশছে লাচেন চু ও লাচুং চু নদীতে। এই দুই নদী তিস্তার গুরুত্বপূর্ণ উপনদী।

শুধু হোটেল নয়, লাচুংয়ের কয়েকটি বাড়ির নিকাশি পাইপ সরাসরি নদীর সঙ্গে যুক্ত বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। দূষিত এলাকাগুলিতে দুর্গন্ধ এবং হলদেটে জল বেরোতে দেখেছেন পরিদর্শকেরা। পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেছে আদালত।

চার সপ্তাহের সময়সীমা, না মানলে বন্ধ হোটেল

আদালত প্রশাসনকে অবিলম্বে হোটেল ও বাড়ির মালিকদের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছে, যাতে অপরিশোধিত নিকাশির জল জলাশয়ে না ফেলা হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে হবে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বন্ধ রাখতে হবে। নিয়ম মানা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নিকাশি শোধনাগার তৈরির নির্দেশ

সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্য সরকারকে আরও কিছু নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কোথায় নিকাশি শোধনাগার তৈরি করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করতে হবে। তার পরের এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাতে হবে। পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালতকে জানানো হয়েছে, চুংথাংয়ে একটি নিকাশি শোধনাগার তৈরির কাজ চলছে। তবে রাজ্যের অন্য কোথাও এমন পরিকাঠামো নেই। সিকিমের ছয়টি জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষগুলিকেও।

আদালতের রিপোর্ট অনুযায়ী, লাচেনের স্থায়ী জনসংখ্যা প্রায় ৩,০১০ এবং লাচুংয়ের ৩,৩৩২। পর্যটনের মরসুমে প্রতিদিন অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষ দুই এলাকায় আসেন। ফলে নিকাশি ব্যবস্থার উপরে চাপও বাড়ে। পর্যটন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সিকিম প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হলে তিস্তার উপনদীগুলিকে দূষণমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নিকাশি শোধনাগার তৈরি এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks